‘গৃহবন্দিত্ব’, হার্টে ব্লক, ভালো নেই বুলবুল

অপারেশন শুরুর আগে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বাংলাদেশের পতাকা এবং কুরআন শরিফ বুকের মধ্যে রাখতে চান।

সিফাত বিনতে ওয়াহিদ
সহ-সম্পাদক
১৬ মে ২০১৮, সময় - ১৩:২০

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল গুরুতর অসুস্থ। অসুস্থতা নিয়ে চারদিন তিনি ভর্তি ছিলেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে। তার হার্টে ইতোমধ্যে ৮টি ব্লক ধরা পড়েছে। বাইপাস ছাড়া এ চিকিৎসা সম্ভব না বলে জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গতরাতে একটি পোস্ট দিয়েছেন এ গুণী শিল্পী।

ফেসবুকের ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘সরকারের নির্দেশেই ২০১২ তে আমাকে যুদ্ধ অপরাধীর ট্রাইব্যুনালের [আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল] কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে।

কিন্তু এই সাক্ষীর কারণে আমার নিরপরাধ ছোটো ভাই ‘মিরাজ’ হত্যা হয়ে যাবে এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।’

তিনি গৃহবন্দী হয়ে আছেন এমনটা দাবি করে নিজের স্ট্যাটাসে বুলবুল লিখেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮ টা ব্লক ধরা পড়েছে, এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল জানান, বাইপাস সার্জারি করার জন্য মানসিকভাবে তিনি প্রস্তুত আছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে যে কোনো সময় এ সার্জারি করানো হতে পারে বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং জানান চিকিৎসার জন্য তার সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, বন্ধু-বান্ধব বা শিল্পী সমাজের সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তিনি নিজেই চিকিৎসা চালাতে সক্ষম। তবে অপারেশন শুরুর আগে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বাংলাদেশের পতাকা এবং কুরআন শরিফ বুকের মধ্যে রাখতে চান।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭০ দশকের শেষলগ্ন থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সংগীত শিল্পে সক্রিয় রয়েছেন। ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। স্বতন্ত্রভাবে তিনি অসংখ্য গানের অ্যালবামের কাজ এবং চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সকল জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘তুমি আমার জীবন’, ‘আমি তোমার জীবন’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের গীতিকার ও সুরকার তিনি। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কার-সহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কার। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন