(ইলিয়াস আহমেদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ১৭ জুলাই সোমবার বিকেলে অনশনে যোগ দিয়েছেন আরও তিন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে অনশনকারীর সংখ্যা দাঁড়াল আট জনে।

১৭ জুলাই সোমবার বিকেলে অনশনে যোগ দেওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন বাংলা বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কার্যকরী সদস্য নাইমুল আলম মিশু, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কার্যকরী সদস্য তাসনুভা তাজিন ইভা এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের রাতুল খালিদ। এদের মধ্যে তাসনুভার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এর আগে ১৬ জুলাই রোববার রাতে সাড়ে ১২টায় দর্শন বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের ফয়সাল আহমেদ রুদ্র অনশনে যোগ দেন। এদিনে ১৫ জুলাই শনিবার থেকে অনশনরত তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার বিকেলে অনশনস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, অনশনরত তিন শিক্ষার্থী জাহিদুল, পূজা ও তাহমিনাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক বীরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, কিছু না খাওয়ায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজনের শরীরে শর্করা এবং অন্যান্য উপাদনসহ রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তাদের স্যালাইন দিতে হয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে সোমবার বিকেলের মধ্যে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে।  

তবে অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানান, মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্তর তারা অনশন অব্যাহত রাখবেন।

এর আগে ১৫ জুলাই শনিবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে আমরণ অনশন শুরু করেন পূজা বিশ্বাস ও সর্দার জাহিদুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার তাদের সঙ্গে যোগ দেন তাহমিনা জাহান ও খান মুনতাছির আরমান এবং ফয়সাল আহমেদ রুদ্র নামে আরও তিন শিক্ষার্থী ওই আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে শুক্রবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নিতে খবর দেওয়ার এক ঘণ্টা পরে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা মারা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পাসে জানাযার নামাজও পড়তে দেয়নি।

পরদিন ২৭ মে শনিবার সকাল হতেই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক ও পদচারী-সেতু (ফুটওভারব্রিজ) নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে পুলিশ।

হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। সে সময় ৪২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রশাসনের করা মামলায় আটক শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তবে ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থী আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এর পর থেকেই শিক্ষকদের একাংশ এবং শিক্ষার্থীরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বশেষ ১৫ জুলাই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার আরও দুই শিক্ষার্থী ওই অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত