(প্রিয়.কম) গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে নীলফামারী, সৈয়দপুর ও ডোমার উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক ফসলি জমি। পানি প্রবেশ করেছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

এদিকে ডিমলায় স্বপন বাধের ১ হাজার মিটার এলাকা তিস্তা গর্ভে বিলীন হওয়ায় টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ীতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১ হাজার পরিবার। নীলফামারী জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়ি খোড়া, যমুনেশ্বরী, ধুম, নাউতারা, কুমলাইসহ ১৭টি নদী দু’কুল ছাপিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিনদিনে ৫শ’ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর জমির আমন রোপা ক্ষেত।

হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে নীলফামারী, সৈয়দপুর ও ডোমার পৌর এলাকা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পৌরবাসী।

Flood-affacted-area

ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, গয়াবাড়ি, টেপা খড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, সউলমারী, কইমারী, খুটামারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন, নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, চাপড়া সরনজানী, ইটাখোলা ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সব পুকুর প্লাবিত হওয়ায় সমস্ত মাছ বের হয়ে গেছে৷ পানির কারণে গবাদি পশু নিয়েও প্রচন্ড বিপাকে রয়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন৷

গত কয়েকদিনে ডিমলার টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের পুর্ব খড়িবাড়ি এলাকায় স্বপন বাধের ৯শ’ মিটার এলাকা তিস্তা গর্ভে বিলীন হয়েছে। তিস্তার পানিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১ হাজার পরিবার। এ ছাড়াও গোটা জেলার ১৭টি নদী তীরবর্তী এলাকাসহ পুরো নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সব এলাকার বসত বাড়িতে হাটু পানি থৈ থৈ করছে।

বন্যা কবলিত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বন্যা কবলিত মানুষজনের আশ্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগনদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বণিক প্রিয়.কম-কে বলেন, এ পর্যন্ত সদর উপজেলায় ২শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল