টাকা। ফাইল ছবি

৯৩৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করল ২৭ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে সুদ মওকুফের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ।

ইতি আফরোজ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০১৮, ১০:৪৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০১৮, ১০:৪৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:০০


টাকা। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকসহ ২৭ বাণিজ্যিক ব্যাংক তিন মাসে ৯৩৩ কোটি টাকা ঋণের সুদ মওকুফ করেছে। যার মধ্যে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেরই ২০৭ কোটি টাকা। বাকি ৭২৬ কোটি টাকা ২৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতে সুদ মওকুফের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক ভেদে সুদ মওকুফের দিক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ মওকুফ হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। ব্যাংকটি তিন মাসে সুদ মওকুফ করেছে ১০১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটি তিন মাসে সুদ মওকুফ করেছে ৫৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এরপর সোনালী ব্যাংকের ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংক ১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক ১ কোটি ২২ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করেছে তিন মাসে।

এদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তিন মাসে ন্যাশনাল ব্যাংক সুদ মওকুফ করেছে ৫৬৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এরপর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক তিন মাসে সুদ মওকুফ করেছে ৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তিন মাসে সাউথইস্ট ব্যাংক সুদ মওকুফ করেছে ১১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

সুদ মওকুফ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড আদায় নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের আয় হিসাব ডেবিট না করে আরোপিত সুদ মওকুফ এবং অনারোপিত সুদ মওকুফের বিষয়ে ব্যাংক অথবা পর্ষদ প্রতিটি কেসের যথার্থতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণের সুদ মওকুফের বিষয়ে বেশকিছু শর্তের কথা বলা আছে নীতিমালায়। সেসব শর্তের মধ্যে রয়েছে— সুদ মওকুফোত্তর অবশিষ্ট অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত এ সময়সীমা ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে রাখার কথা বলা আছে নীতিমালায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুদ মওকুফোত্তর অবশিষ্ট অর্থ আদায়ের পর সুদ মওকুফ সুবিধা কার্যকর হয়। আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহক মওকুফোত্তর পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদ মওকুফ সুবিধা বাতিল হয়ে যায়।

সুদ মওকুফ সুবিধা দিতে গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ মওকুফোত্তর অবশিষ্ট অর্থের সমপরিমাণ একটি অগ্রিম তারিখযুক্ত চেক নেয়া হয়। নির্ধারিত তারিখে ওই চেক নগদায়ন না হলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের শর্ত সংযুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে সুদ মওকুফ হিসাবে গরমিলজনিত কারণে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়যোগ্য হয়, তবে গ্রাহককে তা পরিশোধে বাধ্য করার কথাও বলা আছে নীতিমালায়।

রূপালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের অতীতের চেয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক চাপ, স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে সরকারি ব্যাংকগুলোর সুদ মওকুফ বেড়ে গেছে। চাপও রয়েছে সুদ মওকুফ করার। এভাবে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। সুদ মওকুফ বেশি হওয়ায় ব্যাংকের আয়ও কমে যাচ্ছে।

সূত্র: বণিকবার্তা/নয়া দিগন্ত
প্রিয় সংবাদ/গোরা