(প্রিয়.কম) ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে হামলায় প্রধান সন্দেহভাজন আকায়েদ উল্লাহ। তার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই সেখানে থাকতেন। মা বোন আর দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্রুকলিন এলাকায় থাকতেন।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানিয়েছেন, পরিবারটি গ্রিন কার্ডধারী।

ব্রুকলিনের উইন্ডসোর টেরেস এলাকায় তাদের আর্লে জোগরাজ নামের এক প্রতিবেশী নারী রয়টার্স-কে বলেন, কয়েক মাস ধরেই আকায়েদকে বাড়িতে দেখনেনি। শান্ত ওই বাড়িটিতে ইসলামী নিয়ম-নীতি পালন হয়ে থাকলেও কট্টরপন্থা অনুসরণের কোনো প্রমাণ কখনোই তিনি দেখেননি।

পেশায় শিক্ষক ওই নারী বলেন, ‘তারা চমৎকার প্রতিবেশী। কিন্তু এই খবর খুবই হতাশাজনক। আমরা পরস্পরকে চিনতাম, একসঙ্গে পার্টিতে অংশ নিয়েছি। তাদের বাড়িতে গত রোজার সময় ইফতার পার্টি শেষে রাতের খাবারও খেয়েছি। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কটা খুবই জোরালো ছিল।’

হামলায় আকায়েদের নাম আসার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি সংস্কার কতটা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা অবশ্যই তাদের শিথিল অভিভাসন নীতি ঠিক করবে। যার মাধ্যমে বিপজ্জনক ব্যক্তিদের আমাদের দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে।’

আকায়েদ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন যে পারিবারিক ভিসার নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে, সেই নীতিকে সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ধরনের পারিবারিক ভিসা ‘জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বেমানান’। 

এদিকে নিউ ইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমো বলেছেন, সোমবার আকায়েদের ব্যবহার করা বোমাটি অপেশাদার পর্যায়ের। তিনি সিএনএন-কে বলেছেন, ঘরে বানানো বোমাটি পুরোপুরি বিস্ফোরিত হয়নি। 

তবে আকায়েদের হামলা চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তদন্তের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানান, কোনো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছেই আকায়েদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য নেই। তবে বর্তমানে তা আবারও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আকায়েদ সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। তার অপরাধের কোনো তথ্যও বাংলাদেশের পুলিশের কাছে নেই বলে জানান তিনি। 

নিউ ইয়র্ক ট্যাক্সি এন্ড লিমুজিন কমিশন জানায়, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আকায়েদের কাছে লিমুজিন চালানোর লাইসেন্স ছিল।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় ১১ ডিসেম্বর সোমবার সকালে ম্যানহাটনের ৪২ নম্বর সড়কের ৮নং এভিনিউতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ওই বিস্ফোরণে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে আকায়েদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ হামলায় চার জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত