(প্রিয়.কম) ‘ঢাকা অ্যাটাক’-সিনেমায় সোয়াট টিমের ইনচার্জ (এসি, সোয়াট) আশফাক চরিত্রে অভিনয় করা এবিএম সুমন’কে নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘অচেনা হৃদয়’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আবির্ভাব ঘটে তার। এর আগে করেছেন মডেলিং। যদিও সুঠাম দেহের অধিকারী এই নায়ক অভিনয়ে খুব একটা সাফল্য পাননি । কিন্তু ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ সোয়াট দলের ইনচার্জ চরিত্রে সুমনের অসাধারণ অভিনয় দর্শক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

কালো সানগ্লাসের আড়ালে নিরুত্তাপ পাথরের মত মুখের ভঙ্গি’র কথা এখন দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। আর তাই অনেকেই বলছে, এই সিনেমাটি এবিএম সুমন এর ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন। গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় কথা হচ্ছিল এ অভিনেতার সঙ্গে। আর তখন কথার স্বরেই বোঝা যাচ্ছিল, খুব তাড়াহুড়ো করছেন। জানালেন, তিনি ছবিটির পরিচালক দীপংকর দীপনের সঙ্গে রাজধানী বসুন্ধারা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে মুভিটি দেখার জন্য গিয়েছেন। কারণ কয়েকজন অতিথি আসবেন। তাদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখবেন তারা।

সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই অভিনয়ের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এবিএম সুমন। মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে তিনি ফিডব্যাক পাচ্ছেন। ব্লকবাস্টার হিট সুমনের ছবি। এছাড়াও দর্শক সমাদৃত হচ্ছে। ব্যবসায়িক সাফল্যও পেয়ে চলছে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল-কেমন বোধ করছেন?

তিনি বলেন, ‘আমার আসলে অনেক দিনের অপেক্ষার ফসল এ ছবিটি। কারণ আমি কাজ করি খুবই কম। সিনেমায় অভিনয় নিয়ে কথা তো অনেকেরই সঙ্গে হয়। কিন্তু যখন আমি দেখি না কেউ একজন একটি ফিল্ম বানাবে তখনই কাজটি করা হয়। অনেক কাজ করার ক্ষুধা কিংবা অনেক টাকা বানাব এজন্য আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি। শিল্পী হয়ে আজীবন বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে এসেছি।’

আর সেদিক থেকে কাজের কোয়ালিটির গুরুত্বের বিষয়টি এবিএস সুমন সব সময় মাথায় রাখেন। আর বললেন, ‘সুযোগটা যখন পেয়েছি, আমি নিয়েছি। আমাকে শতভাগ ব্যবহারের বিষয়টি পরিচালকের হাতে ছিল। আমার ভাল লাগছে এই ভেবে আমি এতোদিন অপেক্ষার পর একটি প্রপার ফিল্মের মাধ্যমে আমি এতোদিন পর বাজারে এসেছি। এটা বিশাল শান্তি।’

প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এ অভিনেতা জানান, এ ছবিতে প্রত্যেকটি দৃশ্যধারণের আগে এবিএম সুমন’কে মোমেন্টটা জানতে হয়েছিল-কোন সিকোয়েন্সটা কখন যাচ্ছে। যদিও চিত্রনাট্য তার মুখস্থ ছিল। আর সে অনুযায়ী তাকে চরিত্রটি প্লে করতে হয়েছে। এটা তার ক্যারিয়ারের এ ধরনের প্রথম কোন কাজ। এজন্য তাকে হোম ওয়ার্কও করতে হয়েছে।  

এবিএম সুমন/ ছবি: রিপন/ প্রিয়.কম

সিনেমার দৃশ্যে এবিএম সুমন/ ছবি: সংগৃহীত

সুমন বলেন, ‘ফিল্মে আমার আর নওশাবার চরিত্রটি পরে তৈরি করা হয়েছে। আর চরিত্র দুটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ইমোশনের বিষয়গুলো থাকে। ওখান থেকে আমার প্রতি মুহূর্ত জানতে হয়েছে। কোন সিকোয়েন্সটা কোনটার পর কোনটা যাচ্ছে। এতে ব্যক্তিজীবনের অনেক কিছুই ছিল। যা অভিজ্ঞতা না থাকলে অভিনয় করে দেখানো মুশকিল। সেক্ষেত্রে চিত্রনাট্যকার সানি সানোয়ার ভাই তার ব্যক্তিজীবনের অনেক অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। যার কারণে বেশ সহজ হয়েছে।’

এতে সুমনের সহশিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ। সে ঠিক কেমন কো-অপারেটিভ ছিলেন? ‘নওশাবা, ওর কথা না বললেই নয়। ওর জন্য আমার সম্ভব হয়েছিল ভালো ভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। যখন আমরা আউটডোরে শুটিং করতাম, এমন সিকোয়েন্স এসেছে ওকে আমার মনে করতে হত। বিষয়টা এমন যে-নওশাবা পাশে। শুটিংয়ের সময় কিন্তু আমাকে ওর মনে করতে হচ্ছে আবার ওকেও আমার মনে করতে হচ্ছে। সেখানে মনস্তাস্ত্বাত্বিক একটি জোড়ালো বিষয় ছিল।’ বললেন সুমন। 

এ ছবিতে সুমনের অভিনয়ের পাশাপাশি তার ফিগার, ফিটনেস নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। প্রসঙ্গটি তুলতেই বললেন,‘ ভবিষ্যতে কাজের ব্যাপারে আমাকে আরও অনেক বেশি যত্নশীল হতে হবে। আমি একটা বিষয় বলে রাখি, আমার অভিনয়ের কোন ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। আর মাত্র সাড়ে তিন বছর হল অভিনয় শুরু করেছি। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনারা যাকে পর্দায় দেখেছেন ও সাড়ে তিন বছরের একটা মানুষ। অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগা থেকেই নিজেকে তৈরি করা, আর সে চেষ্টা অব্যাহত রাখা।’

সিনেমার দৃশ্যে পুলিশ লাইনের প্যারেড গ্রাউন্ডে পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল) গ্রহণের সময় এবিএম সুমন/ ছবি: সংগৃহীত

দীপংকর দীপন ছবিটি পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার। ছবিটির পরিবেশনা সংস্থা টাইগার মিডিয়া। ঢাকাসহ সারাদেশের ১২৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ৬ অক্টোবর। এতে জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি। এছাড়াও আছেন আলমগীর, আফজাল হোসেন, কাজী নওশাবা আহমেদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, শতাব্দী ওয়াদুদ, এবিএম সুমন, শিপন মিত্র প্রমুখ।

খলচরিত্রে দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ তাসকিন রহমানকে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মূল ভাবনা ও কাহিনি রচনা করেছেন এডিসি সানী সানোয়ার। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে স্প্ল্যাশ মাল্টিমিডিয়া, ঢাকা পুলিশ পরিবার কল্যাণ সমিতি লি. এবং থ্রি-হুইলারস লিমিটেড।

এদিকে পরিচালক দীপংকর দীপন জানান, শিগগিরই শুরু হচ্ছে ছবিটির পরবর্তী কিস্তির কাজ। ২০১৯ সাল নাগাদ মুক্তি পাবে ‘ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম’। নির্মাতা আরও জানান, ‘ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম’ বা ‘ঢাকা অ্যাটাক-টু’ আসবে, এটা নিশ্চিত। ছবির অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে খুব একটা পরিবর্তন হবে না।’

সিনেমাটির ট্রেলার:

 

প্রিয় বিনোদন/গোরা