(প্রিয়.কম) একবছর আগে বাগদান ও ঘরোয়া বিয়ের আয়োজনের পর গত জুলাইয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রি হয় কলকাতার নায়িকা শ্রাবন্তীর। এই বছর তাদের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের এই সংসারটি টিকে নেই এখন আর। বিয়ে ও বিচ্ছেদের জন্য প্রায় এক বছর চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন শ্রাবন্তী। সম্প্রতি শ্রাবন্তী কথা বলেছেন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের কথা।

টলিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি মুম্বাইয়ের সুপার মডেল কৃষাণকেই গতবছর ভালোবেসে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। শ্রাবন্তী-কৃষাণের পরিচয় হয় দেড় বছর আগে একটি বিজ্ঞাপনের কাজের সময়। এরপরেই ভালোলাগা থেকে প্রণয় এবং পরিণয়ের সিদ্ধান্ত। শ্রাবন্তীর জীবনে কৃষাণ প্রথম নন। এর আগে শ্রাবন্তীর বিয়ে হয়েছিল চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব চক্রবর্তীর সঙ্গে। শ্রাবন্তী-রাজীবের ঘরে জন্ম নেয় ঝিনুক নামের এক পুত্র সন্তান। কিন্তু তাদের সে সংসার টেকেনি। এবার জানা গেলো, কৃষাণের সঙ্গেও সংসার টেকেনি শ্রাবন্তীর।

বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন এবং হতাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমি এখন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। কাজ আর ছেলের পড়াশোনা, এই নিয়ে ব্যস্ত। ঝিনুকের ক্লাস এইট হলো। ওর স্কুলে যেতে অসুবিধা হবে বলে বেহালা থেকে বাইপাসের ধারে বহুতল দালানে চলে এসেছি। আর হতাশ হয়ে নিজের ক্ষতি করতে পারব না। কারণ আমার ছেলে, বাবা-মা সবসময় আমায় আগলে রাখে। মাঝেমাঝে ভাবি এত ভালোবেসেও আমি ভালোবাসা পেলাম না। তারপর ভাবি বাইরের লোকে যাই বলুক, আমি তো জানি কারো সঙ্গে কেন সংসার করতে পারিনি। বাইরের লোক কী বলল, তা নিয়ে আর ভাবি না।’

বিচ্ছেদের পরবর্তী কষ্ট ও হতাশা নিয়ে শ্রাবন্তী আরো বলেন, ‘আমি খুব আবেগ প্রবণ। সংসার করতে ভালোবাসি। কিন্তু এখন মনে হয়, শুধু স্বামী থাকলেই সংসার হবে- এমন নয়। বাবা-মা, ছেলেকে নিয়েও সংসার হয়। প্রতিটা মেয়েই চায় সংসার করতে। কিন্তু আমার কপালে যা লেখা ছিল তাই হয়েছে। ভবিষ্যৎ কী রকম হবে জানি না। তবে আমি আগের থেকে পরিণত হয়েছি। এখন কাজেও অনেক বেশি মন দিতে পারছি। মাঝে এক বছর কাজে অতটা মন দেইনি।’  

কার সিদ্ধান্তে দ্বিতীয়বারের বিচ্ছেদের পথ মাড়ালেন শ্রাবন্তী, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রাবন্তী বলেন, ‘দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কৃষাণের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই শ্রাবন্তীর। প্রাক্তন স্বামীকে শুভকামনা জানিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমি চাই, আমার সঙ্গে না হোক, কিন্তু সে যেন ভালো থাকে।’

 প্রিয় বিনোদন/গোরা