(প্রিয়.কম) আজকে আমাদের প্রতিবেদন মারিয়া পার্কিনসনকে নিয়ে। এগারো বছর বয়সী ছোট্ট একটি মেয়ে ছিল সে। তার সমবয়সী অন্য মেয়েদের মতনই তার ছিলো অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন। কিন্তু একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তার সকল স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। মারিয়া দেখতে পেলো তার পুরো শরীর কেমন অস্বাভাবিক সাদা সাদা দাগে ভরে গিয়েছে! 

দৌড়ে মাকে গিয়ে দেখালো সে। কিন্তু তেমন মারাত্মক কিছু মনে না হওয়ায় মা বললেন, এটি খুব শীঘ্রই সেরে যাবে। অবস্থা ততক্ষণে বেশ বেগতিক হয়ে গিয়েছে। 

মারিয়া দেখতে পেলো তার পুরো শরীর কেমন অস্বাভাবিক সাদা সাদা দাগে ভরে গিয়েছে, ছবি: সংগৃহীত 

এটি আসলে ছিলো ভিটিলিগো। যার দরুণ তার পুরো শরীর আপন রং হারানো শুরু করেছিলো। মারিয়া অতঃপর যখনই বাইরে যেতো পুরো শরীর আবৃত করে যেত যেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি তার শরীরের কোন ক্ষতি না করে। 

নিজের উপরেই যেন মারিয়া বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলো, ছবি: সংগৃহীত 

ভেতরে ভেতরে মারিয়া অপমানে ও অবহেলায় জ্বলেপুড়ে মরছিলো। নিজের উপরেই যেন যে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলো। যেহেতু ও তখন বয়ঃসন্ধিকালে ছিলো, সেহেতু এ আবেগগুলো খুব প্রকট হয়ে ধরা পড়েছিলো। শেষমেষ মারিয়া চিন্তা করলো, যখনই সে বাইরে যাবে তখনই মেকআপের পুরু আস্তরণ শরীর এবং মুখমণ্ডলে লাগিয়ে যাবে। কিন্তু এতে করে যেন হিতে বিপরীত হলো। তার সমবয়সী অন্যান্য মেয়েরা বুঝে ফেললো মারিয়ার অসুস্থতার কথা এবং তারা তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করলো। 

শরীরের দাগগুলো যতো বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করলো, ততো বেশি মারিয়া মেকআপের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলো। কিন্তু এটি খুব একটা কাজে লাগলো বলে মনে হয়না। 

অতঃপর দিন বোধ হয় একটু ফিরতে শুরু করলো। মেয়েটি যখন কলেজে গেলো, সবাই তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানালো। তাকে আহ্বান জানানো হলো মেকআপের পুরু আস্তরণ ছাড়াই আত্মবিশ্বাসের সাথে চলার। মারিয়া তার হারিয়ে যাওয়া সাহস ফিরে পেলো এবং ধীরে ধীরে মেকআপ মুছে আপন ত্বককে গ্রহণ করলো। আমরা শুভকামনা জানাই মারিয়া পার্কিনসনের এহেন সিদ্ধান্তে। 

আপনি কি মারিয়ার প্রতিস্থাপন দেখতে চান? তাহলে দেখে আসুন নিচের ভিডিওটি:

সূত্র: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড 

সম্পাদনা : রুমানা বৈশাখী