প্লেক্সডট ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আকন্দ (বামে), গণি ময়রা অ্যাপ (ডানে)

মাসুমের এআই নির্ভর শপকিপার ‘গণি ময়রা’

এখনো বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছেই ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক, গুগল আর ইউটিউব। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে শুধু সোফিয়াকেই বোঝে অনেকে।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:১১
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১২:১৬


প্লেক্সডট ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আকন্দ (বামে), গণি ময়রা অ্যাপ (ডানে)

(প্রিয়.কম) আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দ দুটির সঙ্গে এখন অনেকেই পরিচিত। এইআই সম্পর্কে মানুষ আগে টুকটাক জানলেও রোবট সোফিয়ার মাধ্যমে অনেকেই নতুন করে জানে। দেশের অনেক মানুষের কাছেই ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক, গুগল আর ইউটিউব। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে শুধু সোফিয়াকেই বোঝে অনেকে।

যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণাটা নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিনিয়ত নানা কাজে এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এটি মানুষের কাছাকাছি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম তাই দিন দিন এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এটি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম। সম্প্রতি কলেজপড়ুয়া মাসুম আকন্দের প্লেক্সডট দেখিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর তার ডিজিটাল শপকিপার ‘গণি ময়রা’।

মাসুম আকন্দ প্লেক্সডট ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। সে নিজেকে পরিচয় দেয় কিশোর উদ্যোক্তা হিসেবে। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়াতে পড়ার সুযোগ পেয়েও সেখানে না গিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

কলেজের পাঠ চুকানোর আগেই মাসুম তৈরি করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডিজিটাল শপকিপার গণি ময়রা। এটি মূলত একটি অ্যাপ। বলতে গেলে এটি নিজেই একটি দোকানদার। মাসুমের ভাষ্যমতে, এই অ্যাপটি বেশি ব্যবহার করা যাবে বিভিন্ন দোকানে। যখন এটি ইন্টারনেটের আওতায় থাকবে তখন কোনো গ্রাহক দোকানে এসে সালাম দিলে জাগ্রত হয়ে উঠবে এই অ্যাপটি। গ্রাহক যা চাইবে তা দোকানে মজুদ রয়েছে কি না, এর মূল্য কত এসব বিষয়ে গ্রাহককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেবে এই অ্যাপটি।

এ বিষয়ে মাসুম আকন্দ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আমি আগেও কাজ করেছি। এর আগের সাফল্য ছিল জোনাকি অ্যাপ। কিন্তু জোনাকির কাজের পরিধি খুব বড় ছিল না। তারপর শুরু করি গণি ময়রা তৈরির কাজ। এই প্রজেক্টের কাজ শুরুর সময় কলেজের গণ্ডিতে ছিলাম। সম্প্রতি আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছি।’

অ্যাপটির বিষয়ে মাসুম আরও বলেন, ‘আপনাকে শুধু নিশ্চিত করতে হবে ইন্টারনেট সংযোগ এবং চার্জ আছে কি না। ফোনে অ্যাপটি ইন্সটল করে দোকানে স্ট্যান্ডে আটকে রাখুন। কাস্টমার দোকানে এসে সালাম দিলেই জাগ্রত হয়ে যাবে গনি ময়রা। এরপর সে কাস্টমারের সাথে বাংলায় কথা বলবে। কাস্টমার কি পণ্য চাইছে তা আছে কি না, সাইজ, ফ্লেভার, পরিমাণ অন্য পণ্যের চাহিদা জানতে চাইবে। ক্রয় নিশ্চিত করলে সে পণ্যটির কিছু তথ্য এবং মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্যের কথা বলবে।

রোবটিক আর্মস স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল করতে পারে এই অ্যাপ। এতে সে নিজেই পণ্য বুঝিয়ে দিতে পারে কাস্টমারকে। কাস্টমারের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমেই বিক্রিত পণ্যের মূল্য হিসাব করে ফেলে গণি ময়রা। এমনকি দোকান মালিক নির্দিষ্ট শব্দ উচ্চারণ করলে পণ্যের মজুদ, মেয়াদ, বিক্রয় তথ্য বলে দেয় গণি ময়রা। প্রতিটি কথোপকথনকে টেক্সটে (লিখিত রূপে) রূপান্তর করে নিজের ডাটাবেইজে জমা রাখে সে। উত্তর দেওয়ার সময় কখনো কখনো সেগুলো বিশ্লেষণ করে। গণি ময়রা অ্যাপে আপনি দেখতে পারবেন আপনি কি বলছেন তা সরাসরি বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে শুধরে বলা যাবে সঠিক উচ্চারণ এবং গণি ময়রা কি বলছে তা শোনার পাশাপাশি আপনি স্ক্রিনে বাংলায় তা টেক্সট আকারে দেখতে পাবেন।’

বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে গণি ময়রা অ্যাপে

মাসুম জানিয়েছেন তার এই অ্যাপে রয়েছে ভয়েস বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। এতে বড় বড় কোম্পানি টিভি, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াই সরাসরি গণি ময়রার কথোপকথনের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে তাৎক্ষণিক পণ্যের ভয়েস বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে পারবেন। আর এই বিজ্ঞাপনের ওপর নির্দিষ্ট টাকার অংশ পাবেন দোকান মালিক।

গণি ময়রার বর্তমান অবস্থা-

মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছিল। উন্মুক্ত করার পর কিছু কারিগরি ত্রুটি সামনে আসে। হিসাব ভুল করত, একটা প্রোডাক্টের তথ্য দিতে গিয়ে অন্য প্রোডাক্টের তথ্য দিত, ইন্টারনেট ছাড়া কাজ করতো না।

এই ব্যাপারে মাসুম বলেন, ‘এরপর আমি এটাকে পুনরায় ডেভেলপ করতে শুরু করি। এখন ইন্টারনেট ছাড়াই সে ৭ মিনিট সাধারণ কথা বলতে পারে। তবে বাকি প্রবলেমগুলো ঘটেই চলেছে। তবে তার উন্নয়নের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী দরকার। তাহলে এটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও নিখুঁত হবে বলে আমি মনে করি। এটি গড়ে ৭৬ শতাংশ সফল। সময় লাগবেই এটাকে আরও নিখুঁত করতে, হুট করেই তো আসলে সব কিছু হয় না। তবে এটি কার্যকর, কারণ এখন প্রতি ১০০টিতে সর্বোচ্চ ২৪টি ভুল আমি পেয়েছি। আবার কখনো ৩-৪টি। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেহেতু প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

 

প্রিয় টেক/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট