রাজশাহীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আখতারা বেগম

তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

ইতি আফরোজ
সহ-সম্পাদক
২০ মার্চ ২০১৮, সময় - ১৩:৪০

আখতারা বেগমের লাশবাহী গাড়ি। ছবি : প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) নেপাল ট্র্যাজেডিতে নিহত রাজশাহী মহানগরের বাসিন্দা আখতারা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মহানগরীর গোরহাঙ্গা কবরস্থানে মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সকাল ৯টা ২০মিনিটে তার মরদেহ মহানগরের ক্রীড়া সংঘের মাঠে পৌঁছায়। সেখানে তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে।  

গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে আখতারা বেগমের লাশ। ছবি : প্রিয়.কম

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। 

এর আগে সোমবার দুপুরে নেপাল ট্র্যাজেডিতে নিহত অন্যদের সঙ্গে রাজশাহীর ছয়জনের মরদেহও ঢাকায় পৌঁছায়। আর আখতারা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য তার মরদেহ পরে আসার কথা রয়েছে।

ছয়জনের মধ্যে শুধু আখতারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। একজনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

নেপাল থেকে দেশে আসা ২৩ মরদেহের মধ্যে রাজশাহী নওদাপাড়ার বাসিন্দা বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত নায়েক সুবেদার (সিগনাল) গোলাম কিবরিয়ার নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু (BC0049030), রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকার বেগম নুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু (BL0077261), তার স্বামী হাসান ইমাম ( BL0077270), মহানগরের আখতারা বেগম ( BQ0966082), রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চল বাগুটিয়া গ্রামের রকিবুল হাসান ( BL0245028) রয়েছেন।

আর বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আখতারা বেগমের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী বলেন, ‘শাশুড়ির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর উপশহর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে জানাজার নামাজ শেষে গোরহাঙ্গা গোরস্থানে দাফন করা হয়।’

ইমরান দাবি করেন, তার শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হাওয়ার পরও প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল। কবে পাঠাবে তাও নিশ্চিত নন। তার (নজরুল) প্যান্টের সেলাইয়ে রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগ রয়েছে। তা দেখে মরদেহ শনাক্তও করা হয়েছে। কিন্তু নিউ নেশন টেইলার্সের ট্যাগে থাকা ফোন নম্বরটি সম্ভবত বদল হয়ে গেছে। আর বর্তমানে যারা ব্যবহার করছেন নেপাল থেকে ফোন দেওয়ার পর তারা সেভাবে পরিচয় শনাক্তে সাড়া দেননি। কেবলমাত্র এই কারণে তার শ্বশুরের মরদেহ পাঠায়নি নেপাল।

এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করে ইমরান আলী বলেন, ‘একই সঙ্গে দুইজন বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপাল। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ এসেছে। অন্যজনের কবে আসবে নিশ্চয়তা মিলছে না। একই সঙ্গে মরদেহ পাওয়া গেলে তাদের নিয়ে আসার এবং দাফন করার বিষয়ে পরিবারের অনেক সুবিধা হতো।’

নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন জানিয়ে তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান।

১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় বাংলাদেশি ৩৬ যাত্রীর মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। বাকি ১০ জন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে দেশে ফেরত আনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসক রেজওয়ানুল হক ও ইমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালের নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ইয়াকুব অালী ও কবির হোসেনের।

প্রিয় সংবাদ/মাইনুল হাসান জনি/রুহুল

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন