(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ সরকার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রসাশনের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল করে ফেলেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সব তথ্যই হাতের মুঠোয় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

৯ অগষ্ট বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জিপি হাউজে গ্রামীণফোন অ্যাক্সিলেরেটর (জিপিএ)-এর ডেমো ডে-তে তৃতীয় ব্যাচকে বিদায় সংবর্ধনা এবং চতুর্থ ব্যাচকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ইন্টারনেটের কল্যাণে বাসায় বসেই এখন, খাবার কিনতে পারি, বাজার করতে পারি, প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটা করা সম্ভব। একইসাথে সরকারের সবধরনের তথ্য পাওয়াও সম্ভব। তাই জনগণের কি লাগবে, কোন যন্ত্রটা লাগবে সেটা যদি তৈরি করতে পারেন। তাহলে সেই যন্ত্র বা অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে আপনি সরকারের সেই তথ্যটা সংগ্রহ করবেন। 

তিনি বলেন, এখানে শিক্ষা আছে, স্বাস্থ্য আছে, আইন আছে। এমন একটা অ্যাপ যদি থাকে, যেখানে এমন একটি বাটন থাকবে যা প্রেস করলেই থানায় ম্যাসেজ চলে যাবে এবং কোন যায়গাটাতে আপনি আছেন তা থানা বুঝবে। এমন কিছু থাকলে আপনি বিপদ আপদ থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, এই এক্সেলেটর প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুনদেরকে ডিজিটাল উদ্ভাবনের জন্য যে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এটা উৎসাহব্যঞ্জক। ডিজিটাল জীবনযাপন সহজ করতে নতুন নতুন উদ্ভাবনকে পৃষ্ঠপোষকতা করা দরকার, অর্থায়ন করা দরকার এবং উতসাহিত করা দরকার। ডিজিটাল দেশ গঠন এবং ডিজিটাল লাইফস্টাইল এর জন্য ডিজিটাল পণ্য ও সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এক্ষেত্রে সহায়তা করার চেষ্টা করছে এবং আপনারাও এতে সহায়তা করছেন দেখে আমি আনন্দিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে তরুণ স্টার্টআপদের প্রযুক্তি বিষয়ক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এসডি এশিয়ার সঙ্গে মিলে দি জিপি অ্যাক্সিলেরেটর প্রোগ্রামটি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচের স্টার্টআপদের চার মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞ দ্বারা কারিকুলামভিত্তিক মেন্টশিপ প্রদান করা হয়য়। নির্বাচিত প্রতিটি স্টার্টআপকে সিড ফান্ড হিসেবে ১২ লাখ টাকা, প্রায় এক হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস (এডব্লিউএস) ক্রেডিট এবং চার মাসব্যাপি জিপি হাউজে কাজ করার জন্য বিশাল জায়গা দেয়া হয়ে থাকে। একই সাথে এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসা, খাত সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের দ্বারা যাচাই-বাছাই  এবং নিজেদের প্রকল্পটি বাণিজ্যিককরণের লক্ষে সবরকম আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে স্টার্টআপগুলো। এদের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান আগামী সেপ্টেম্বরে টেলিনর গ্রুপ আয়োজিত ডিজিটাল উইনার এশিয়ায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে নিজেদের ব্যবসা বিস্তারের সুযোগ পাবে।     

তৃতীয় ব্যাচের তিনটি স্টার্টআপ- জলপাই, মাইক্রোটেক ও ব্যাংককম্পেয়ারবিডি  স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, পেশাদার প্রযুক্তিবিদ, গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়ার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণসহ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ আমন্ত্রিত প্রায় ২০০জনের সামনে যার যার ব্যবসায়িক ধারণা প্রদর্শন করে।

চতুর্থ ব্যাচের স্টার্টআপরাও অতিথিদের সামনে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে। চতুর্থ ব্যাচের শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপগুলো হচ্ছে- অল্টারইউথ, ফুডটং,অভিযাত্রিক, মার্স এবং আমারউদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন খাতের জটিল সমস্যা সমাধানের উপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা হবে। 

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি, গ্রামীণফোনের ট্রান্সফরমেশন বিভাগের প্রধান কাজি মাহবুব হোসেন, সডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর আর খান, জিপি অ্যাক্সিলেরেটরের প্রধান মিনহাজ আনোয়ারসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রিয় টেক/মিজান