রাখাইনে সেনা অভিযানের নামে তাণ্ডব। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচিত দমন অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এটা নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নবনিযুক্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। তাই সেখানে সেনাবাহিনীর অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। ওই এলাকার জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে শুধু পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করবেন।

অপর এক খবরে বলা হয়, শুধু শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সেনাবাহিনীর অবস্থান থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি সেনাবাহিনী।

এর আগে রাখাইন রাজ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, নির্যাতন এবং গণধর্ষণের মত ঘটনার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সেনা অভিযানের ‍মুখে জীবন বাঁচাতে নৌকায় পালাচ্ছে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা। ছবি: সংগৃহীত

এসব অভিযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সাং সুচিকে নিয়ে বেশ সমালোচনা, এমনকি নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ঘটনার পরিপেক্ষিতে জাতিসংঘের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, মিয়ানমার সেনাবাহিনী হয়তো রাখাইন রাজ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত। সেখানে জাতিগত নিধনও চালানো হয়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা পোস্টে হামলার ঘটনায় নয় পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকেই রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের এক হিসেব অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/সোহেল