(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়নে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখের বেশি। আর এ সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এরই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট চেয়ে এ আবেদন করেন। রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

রিট আবেদন সম্পর্কে আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম সংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৫১ সালের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশনে সুরক্ষার বিষয়টি বলা আছে। আর ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে সে কনভেনশনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ দুটির কোনোটিতেই স্বাক্ষর করেনি। ফলে একটি আইনি কাঠামোর শূন্যতা রয়ে গেছে।’

সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের পাশাপাশি সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু সংবিধানের এ বিধানমতে শরণার্থীরা কীভাবে, কোন আইনে আশ্রয় নেবে তা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে দেশে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি সরকার সম্পূর্ণ মানবিক দিক বিবেচনায় এনে করেছে। সম্প্রতি নতুন করে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দেশে ঢুকেছে এবং ঢুকছে। তা ছাড়া পাকিস্তানি বিহারীরাও শরণার্থী হিসেবে বসবাস করে আসছে।

তানজিম আল ইসলাম বলেন, ‘বিশাল এই শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা ও সুরক্ষার জন্য একটি আইনি কাঠামো থাকা খুবই জরুরি।’

বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর অবকাশকালীন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহেই আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে তিনি জানান।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত