(প্রিয়.কম) দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি’র (আরসা) সঙ্গে ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ করে আসছিল মিয়ানমার সরকার। এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আতাউল্লাহ আবু আমর জুনুনি’র নেতৃত্বে পরিচালিত এ সংগঠনটি।

তাদের দাবি, ‘২০১৬ সালের রাখাইনে গঠিত রোহিঙ্গদের দল দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) কোনো ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’

এর আগে হংকং ভিত্তিক এশিয়া টাইমসের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা মুসলমিদের নাগরিকত্ব প্রদান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশয়িারি উচ্চারণ করছিলেন ‘দ্য আরাকান রোহঙ্গিা সালভশেন আর্মি’ (আরসা)-এর মুখপাত্র পরচিয় দেওয়া আবদুল্লাহ নামের একজন।  

১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড লেভান্তে (আইসআইএস), লস্কর-ই-তায়েবা অথবা বৈশ্বিক কোনো জঙ্গিগোষ্টির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।’

তারা আরাকানে কোনো ধরনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা চায় না উল্লেখ করে বিৃবতিতে আরও বলা হয়,  ‘কোনো জঙ্গিগোষ্টির সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমতাবস্থায় এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আগেই আরাকানকে এর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংগঠন বর্তমানে রাখাইনে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে অবগত আছে। একই সঙ্গে বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং জীবন রক্ষার্থে মানবিক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’ 

প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট রাতে সহিংসতা শুরুর পর থেকে রাখাইন থেকে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান যাইদ রাআ’দ আল হোসাইন সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের গৃহীত পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক বিষয়গুলোর তোয়াক্কাও করছে না বলে দাবি যাইদ। তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রতি চলমান এ সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। 

এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর চলমান নির্মম নির্যাতনে এবং গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি-কে আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম। এর মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের বসবাস করে। পুরো অঞ্চলের জনসংখ্যার মধ্যে তারা শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিনহাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া, হত্যা, ধর্ষণসহ নানা অত্যাচারের প্রেক্ষিতে জনমানবশূন্য হয়ে গেছে প্রায় ১৭৬টি গ্রাম।

সূত্র: আল জাজিরা

প্রিয় সংবাদ/রিমন