(প্রিয়.কম) বেশ কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় নকল ডিমের বিষয়টি। তবে সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে নকল ডিমের দেখা মিলেছে। আর এসব ডিম কখনো হাঁসের ডিম, আবার কখনো মুরগির ডিম হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার নসরতপুর বাজার থেকে ৯০ টাকায় দশটি হাঁসের ডিম কেনেন মোহাম্মদ মোক্তার। ডিম সিদ্ধ করার পর খোসা ছাড়াতেই ভীত হয়ে পড়েন তিনি। দেখলেন হালকা কালো বিদঘুটে এক ধরনের পদার্থ। লালচে কুসুমের ওপর লাল রং ছিটানো। অসহনীয় দুর্গন্ধ। 

পরে ডিম বিক্রেতার কাছে এর উত্তর জানতে চাইলে বিক্রেতা জানান তিনি পাইকারদের কাছ থেকে ডিম কিনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দেশের ভেতরেই এক শ্রেণীর দুর্বৃত্ত এই ডিম তৈরি করে বাজারজাত করছে। সারা দেশেই এ ধরনের ডিম এখন ছেয়ে গেছে। 

মোহাম্মদ মোক্তার বললেন, তার মাছের খামার আছে। পুকুরে রেণু পোনা ছাড়ার পর মাছের খাবার হিসেবে হাঁসের ডিম ভেঙ্গে কুসুম পানিতে ছেড়ে দেন। তিনি লক্ষ করেছেন, রেণু পোনা টিকছে না। এখন বুঝতে পারছেন ওগুলো নকল বা কৃত্রিম ডিম ছিল। 

এই বিষয়ে এক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বললেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ধরনের বিষাক্ত ডিম কোনভাবেই মানুষের খাওয়া উচিত নয়। মানুষের পেটে গেলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। 

জানা যায়, নকল এই ডিমগুলো দেখতে হুবহু আসল ডিমের মতো। তবে তেলে এই ডিম ভাজলে বিদঘুটে গন্ধ ছড়ায়। ডিমগুলো আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম)। 

নকল ডিম চেনার উপায়- 

নকল ডিম ঈষত্‌ চকচকে, শক্ত, আসল ডিমের খোলার থেকে শক্ত খোলা। এর ভেতরের মধ্যের অংশ রবারের মতো।আসল ডিমের গন্ধ কাঁচা মাংসের মতো। নকলে তা থাকবে না। নকল ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়। নকল ডিম ভাজার সময় এর হলুদ অংশ না স্পর্শ করলেও ভেঙে যায়। নকল ডিম ভাঙলে এর সাদা ও হলুদ অংশ দ্রুত মিশে যায়। নকল ডিমের খোসা আসলের মতো মসৃণ নয়। খানিকটা খসখসে। নকল ডিমকে যদি আপনি সাবান বা অন্য কোনো তীব্র গন্ধযুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। 

সূত্র- দৈনিক জনকণ্ঠ

প্রিয় সংবাদ/রাকিব/মিজান