নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ফাইল ছবি

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সম্পদ ও পরিবেশ হবে পৃথিবীর কঠিন চ্যালেঞ্জ’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ওপর আধিপত্য দেখাতে পারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনুস বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে প্রযুক্তির বুদ্ধিমত্তা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে।’

জানিবুল হক হিরা
লেখক
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০১৮, ১৮:০২
আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৮


নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ফাইল ছবি

(ইউএনবি) নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, মানুষ ও পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে কঠিন তিনটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ এবং পরিবেশ।

২৮ জুন, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘যদি এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা না যায় তাহলে এগুলো ভবিষ্যতে মানুষের জন্য হুমকির কারণ হবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ওপর আধিপত্য দেখাতে পারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনুস বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে প্রযুক্তির বুদ্ধিমত্তা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে।’

এক্ষেত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অধ্যাপক কয়েকটি নির্দেশাবলী মেনে চলার পরামর্শ দেন। যেমন- একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা যার মাধ্যমে অপরিকল্পিত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানুষ বা গ্রহের বিরুদ্ধে তাদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ড. ইউনুস সম্পদ কেন্দ্রীভূত করাকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি মানুষের মধ্যে হতাশা এবং দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবে।’

‘অর্থনীতি যত দ্রুত বাড়ে সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ বা সম্পদ বৈষম্যের হারও তত বাড়ে’, যোগ করে অধ্যাপক ইউনুস পরামর্শ দেন, ক্রমবর্ধমান সামাজিক ব্যবসা এবং উদ্যোক্তা হচ্ছে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করা রোধের উপায়।

‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কোনো ভালো কাজ হবে না, যদি তাতে সমতা এবং সম্পদ বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা না হয়,’ যোগ করেন ইউনুস।

‘বিশ্ব জনসংখ্যার এক শতাংশ ৭৩ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে’ উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘লোভ সর্বত্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে সবকিছু গ্রাস করে ফেলে।’

পরিবেশ রক্ষা করার জন্য শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়ে নোবেলজয়ী বলেন, ‘এটি অসম্ভব কিছু নয়।’ তিনি বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরো অনেক বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন যাতে এটি কার্বন নিঃসরণের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারে। কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা এবং কার্বনের বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার ওপরও জোর দেন ড. ইউনুস।’

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতার জন্য ভারতের ব্যাঙ্গালোরে ইনফোসিস ইলেকট্রনিক সিটি ক্যাম্পাসে অষ্টম সোশ্যাল বিজনেস ডে’র আয়োজন করেছে ইউনুস সেন্টার।

এ বছরের সোশ্যাল বিজনেস ডে’র প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘তিন শূন্যর পৃথিবী: দারিদ্রশূন্য, বেকারত্ব শূন্য, কার্বন নিঃসরণ শূন্য।’

আয়োজকরা জানায়, এই প্রতিপাদ্য অধ্যাপক ইউনুসের দারিদ্রহীন, বেকারত্বহীন এবং পরিবেশগত হুমকিহীন পৃথিবী গড়ে তোলের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

ইউনুস বলেন, ‘দুই দিনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিকট ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করতে পারব সেটা দেখতে চেয়েছি।’

সোশ্যাল বিজনেস ডে’তে অংশ নিতে ৪২ দেশ থেকে ১২ শ’র বেশি প্রতিনিধি নিবন্ধন করেছেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
কসভো দখলের হুমকি সার্বিয়ার
কসভো দখলের হুমকি সার্বিয়ার
নয়া দিগন্ত - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলকে হুমকি লেবাননের
ইসরায়েলকে হুমকি লেবাননের
জাগো নিউজ ২৪ - ৫ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে

loading ...