টহলরত অবস্থায় মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রাখাইনে পুলিশ পোস্টে গ্রামবাসীর হামলা, পুলিশসহ নিহত ৩২

মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্টে হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩২ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুলিশ, ১ জন সেনা কর্মকর্তা আর বাকি ২১ জন রোহিঙ্গা মুসলিম।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪৯ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪৯ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮


টহলরত অবস্থায় মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্টে হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩২ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুলিশ, ১ জন সেনা কর্মকর্তা আর বাকি ২১ জন রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কিছু এলাকায় এখনও নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। 

২৫ আগস্ট শুক্রবার সকালে দেশটির সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একসঙ্গে প্রায় ২৪টি পুলিশ পোস্টে হামলা চালনো হয়েছে এবং একটি সেনা ঘাঁটিতেও প্রবেশের চেষ্টা চালায় আক্রমণকারীরা।

ঘটনার প্রেক্ষিতে দেওয়া একটি বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ‘বাঙালি’ অভিবাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়। বলা হয়, রাত ১টার দিকে উত্তর রাখাইনের মংডু সীমান্তের পুলিশ স্টেশনে চরমপন্থী ‘বাঙালি’ বিদ্রোহীরা অতর্কিত আক্রমণ করে। এসময় তারা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ পোস্টে হামলার সময় গ্রামবাসী সমন্বিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করে।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চির অফিসের সাথে সম্পর্কিত একটি কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘অন্তত পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। দুটি বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে পুলিশের কাছ থেকে। ঘটনাস্থলে সাতজন বাঙালি চরমপন্থী বিদ্রোহীদের লাশ পাওয়া গেছে।’

গত বছরের অক্টোবর থেকে রাখাইনে হামলার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে সময় ৯জন পুলিশ নিহত হওয়ার জেরে দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক আকারে অভিযান চালায় রাখাইনে। অভিযান চালানোর সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও হত্যকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

এসময় প্রায় ৮৭ হাজার রোহঙ্গিা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর এ বর্বরতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘসহ অনেক মানবাধিকার সংস্থা।

সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী নতুন করে রাথেংটং শহর এলাকায়  ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেসন্স’ নামের একটি অভিযান পরিচলনা করলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। যেখানে রাখাইনের বৌদ্ধরা এবং মুসলিম রোহিঙ্গারা পাশাপাশি বসবাস করে।

উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট বৃহস্পতবিাররে হামলা সংগঠিত হওয়ার কিছু সময় পূর্বে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বিরোধপূর্ণ অঞ্চল রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন অং সাং সু কি’র কাছে জমা দেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ঘন্টা কয়েক পরেই এ হামলা সংগঠিত হয়। যা রাখাইনে রোহিঙ্গা সমস্যাকে আরও ঘণীভূত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র: রয়টার্স

প্রিয় সংবাদ/মিজান