(প্রিয়.কম) উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে বরিশালে নতুন সেনানিবাস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় নতুন এই সেনানিবাস স্থাপন প্রকল্পসহ মোট দশটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে তিন হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

একনেক সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করেন। 

তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের বেশ কিছু মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষিণে একটি সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসটি মূলত বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে পায়রা নদীসংলগ্ন এলাকায় লেবুখালীতে পড়ছে। দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পে বড় উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে এখন ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সেনানিবাস নেই। নতুন এই সেনানিবাসের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, প্রকল্প এলাকাটি চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে ঘরবাড়ি কিংবা স্থাপনার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রস্তাবিত সেনানিবাসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রায় ১৭ হাজার। প্রকল্প ব্যয়ের পুরো খরচ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। 

একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হল মংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শালিখা (মাগুরা)-আড়পাড়া-কারিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৮০ লাখ, বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

এছাড়া বৃহত্তর খুলনা ও যশোর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ভেড়ামারা (বাংলাদেশ)-বহরমপুরের(ভারত) দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন (বাংলাদেশ অংশ) নির্মাণ প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৩১ লাখ, জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ, ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োইকুভ্যালেন্স স্টাডিজ এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল সাইন্সেস প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত