(প্রিয়.কম) মামলার ভয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করে তার দেশে ফেরা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা।

১৭ জুলাই সোমবার পৃথক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। ১৬ জুলাই রোববার চিকিৎসার জন্য লন্ডন পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক মন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরের বিষয়টি তুললে তিনি বলেছেন, ‘দেখেন উনি ফিরে আসেন কি না?’ বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রীর বরাতে এই খবর নিশ্চিত করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ওই বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘যিনি মামলার তারিখ পেছনোর জন্য ১৫০ বার আবেদন করেন—তার বেলায় এ প্রশ্ন ওঠাটাই তো স্বাভাবিক যে উনি কি তাহলে মামলার ভয়ে আর আসবেন না?’

অপরদিকে, সচিবালয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন তো (তারেক রহমান) মামলার ভয়ে দেশেই আসেন না। অপরজনও (খালেদা জিয়া) গেলেন সেই টেমস নদীর পাড়ে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গত শনিবার থেকে ফেসবুকে দেখছি, টুইটারে দেখছি তার বিষয়ে স্ট্যাটাস। এত বেশি সময়ের জন্য একটি বড় দলের চেয়ারপারসন বিদেশে যাচ্ছেন, এখন জনশ্রুতি হচ্ছে, তিনি কি মামলার ভয়ে পালিয়ে গেলেন? তিনি কি মামলার ভয়ে ফিরে আসবেন না? মামলায় ১৫০ বার আদালতে সময় চাওয়ার পর এই সন্দেহটা ঘনীভূত হচ্ছে, জনগণের মধ্যে এই গুঞ্জনটা শাখা–প্রশাখা বিস্তার করছে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার মতো সাহস করে তিনি ফিরে আসবেন কি না তা সময়েই বলে দেবে।’

বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পাখির মতো মানুষ পথে বলি হচ্ছে। কত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে সড়কে। কত পরিবার বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। একজন মন্ত্রী হিসেবে কিছুই না করতে পারায় তার মনটা ভীষণ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত