নারায়ণগঞ্জে হামলায় আহত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: প্রিয়.কম

আওয়ামী লীগে ‘দ্বন্দ্ব নেই’ তবুও সংঘর্ষ

দলীয় কোন্দল, প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে জড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একাধিক কর্মী। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের এসব দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ নিলেও তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা তা রাখেনি। বরং প্রতিনিয়ত এই দ্বন্দ্ব বাড়ছে।

মুহম্মদ আকবর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:২৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০০
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:২৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০০


নারায়ণগঞ্জে হামলায় আহত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দলীয় কোন্দল, প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে জড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একাধিক কর্মী। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের এসব দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ নিলেও তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা তা রাখেনি। বরং প্রতিনিয়ত এই দ্বন্দ্ব বাড়ছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলের ভেতরে কারও মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ এত বড় একটি  দল। এখানে মতবিরোধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এটা দ্বন্দ্ব নয়।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় এই দুই নেতাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ নেতারা দ্বন্দ্ব নেই বললেও আইভী ও শামীমের বক্তব্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

২১ জানুয়ারি রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ঘেরাও করেছেন উপ-কমিটিতে পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতারা। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাড়ি থেকে নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার পথেই সাবেক ছাত্রনেতারা ওবায়দুলকে ঘেরাও করেন।

ঘেরাওয়ের সময় ওই নেতারা আওয়ামী লীগের ‘দুর্দিনের কাণ্ডারী’দের উপ-কমিটিতে জায়গা দেওয়ার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে স্লোগান চলে। এর পর সমবেতদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যারা দলের দুর্দিনে অবদান রেখেছে, কেউ দল থেকে বাদ পড়বে না। সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।’

ওবায়দুলের এই বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা সরে যান। দলের সভাপতির কার্যালেয় প্রবেশ করেন ওবায়দুল। এর একদিন আগে ২০ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় উপ-কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাদের ‘তোপের মুখে পড়ে’ প্রায় ঘণ্টাখানেক আটকা পড়েন ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ঘেরাও করেন উপকমিটিতে পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতারা। ছবি: প্রিয়.কম

এই ঘটনাকে ‘অবরুদ্ধ বা তোপের মুখে’ বলতে নারাজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‌‌‌‘ওরা আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। আর তখন আমি নামাজ পড়তে ছিলাম। তাই দরজা বন্ধ ছিল। এটাকে যারা বলছে অবরুদ্ধ বা তোপের মুখে ওবায়দুল কাদের তারা ঠিক বলেননি।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করে প্রিয়.কমকে দেওয়া বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, সিনিয়রদের মতো তারাও দলকে পরিচ্ছন্ন করতে ঘাম-শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং এই দলে তাদের বাদ দিয়ে জামায়াত-বিএনপির ক্যাডারদের জায়গা দিয়ে কারও স্বার্থ সিদ্ধি করতে তারা দেওয়া হবে না। সে কারণেই এই বিক্ষোভ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের দ্বন্দ্ব পুরানো। সাঈদ খোকনের বাবা মেয়র হানিফের ১১ তম মৃত্যুবার্ষীকির অনুষ্ঠানে দুজনকে এক মঞ্চে এনে সমাধান করলেও বর্তমানে এ দ্বন্দ্ব অব্যাহত আছে। এখনও দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ১১ নভেম্বর গ্রুপ দুটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত সিটি নির্বাচনের আগে আইভী-শামীমকে গণভবনে ডেকে নিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আইভীকে ‘বোন’ সম্বোধন করে তার জন্য কাজ করবেন বলে কথা দেন শামীম ওসমান। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই চিত্র বদলে যায়। সর্বশেষ হকার উচ্ছেদ অভিযানে গেলে দুজনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এখানকার চিত্রটা শুধু ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়বিভিন্ন সময় একে অপরের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সততার প্রশ্নেও কথা বলতে দেখা যায়। গত তিন মাস আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। এই দুই প্রভাবশালী নেতার দ্বন্দ্বের বিষয়ে কাউকে কথা বলতে দেখা যায়নি।

৫ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারিতে যথাক্রমে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র সুরক্ষা দিবস ও বর্তমান সরকারের শপথ গ্রহণের ৪ বছর পূর্তিতে দ্বিধা-বিভক্ত হয় নাটোর সদর আওয়ামী লীগ। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসযুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী, স্থানীয় পৌরসভার মেয়র জলি চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

আবদুল কুদ্দুস, রমজান আলী, জলি চৌধুরী ‍ও আহাদ আলী সরকার পৃথক পৃথক ফোনালাপে প্রিয়.কমকে জানান, দলের কোনো আয়োজনে তাদের এবং নিজ নিজ অনুসারীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। ৫ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারিতে তাদেরকেও আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে গত শনিবার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ডেকে নিয়ে একে অপরের হাত ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কোনো প্রোগ্রাম করতে পারবে না।’

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমাধানের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ দিলেও সংশয় কাটেনি শিমুলবিরোধী নেতাদের।

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল খান ও সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার জেলা আওয়ামী লীগকে দুই ভাগ করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। কুমিল্লায় আফজাল খান ও বাহারের বিভাজিত রাজনীতি শুধু বাগবিতণ্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে পক্ষে-বিপক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কর্মী হতাহত হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার এই দ্বন্দ্ব সমাধানের চেষ্টা করলে কোন্দলের বাহ্যিক রূপটা স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এই অন্তর্ন্দ্বন্দ্ব ক্রমশ বেড়েছে।

 

আজিমপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলালের সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের সদস্য মাহজাবিন খালেদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। মাহজাবিন খালেদও আগামী নির্বাচনে জামালপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। মূলত দ্বন্দ্বটা ওই মনোনয়ন পাওয়ার বিষয় নিয়ে।

এ ছাড়া ১৪ নভেম্বর ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে জিয়াউর রহমান নামে এক কর্মী নিহত হন। গত ৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান কেরামতউল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান বখতিয়ার রহমানের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের কর্মী বিল্লাল ও এনামুল নিহত হন। ১১ আগস্ট শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন। ১৮ জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী শাহীন নিহত হন।

এর আগে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এমপির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফারুক সরদার নামে এক নেতা নিহত হন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে মকলেছুর রহমান নামের আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের পাঁচ দিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও জামালপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কোন্দলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

আটটি বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োজিত আওয়ামী লীগের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের বক্তব্য অভিন্ন। তারা দাবি করেছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, দেশের মানুষ নতুন দেখেনি। ক্ষমতাসীন দলে এসব একটু বেশি হয়। অন্যান্য দল যখন ক্ষমতায় ছিল তাদের অবস্থাও এ দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। তবে অন্য দলের তুলনায় আওয়ামী লীগে কম। সাংগঠনিক কর্ম তৎপড়তায় সেটাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে বলে জানান তারা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমাদের দলে মতবিরোধ আছে, তবে এটাকে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত বলা যাবে না। কেউ স্বার্থের কারণে দ্বন্দ্ব সংঘাত করলে সে অপরাধী হয়ে যায়। সে তখন দলের পরিচয়ে পরিচিত হয় না। আমরা এসব অপরাধীদের ছাড় দেই না, দেইনি। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এ বিষয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অপরাধী যে দলেই থাকুক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যেসব দ্বন্দ্ব-সংঘাত আছে তা নির্বাচনের আগে শেষ হয়ে যায়। অতীতেও তাই হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করে ব্যক্তির প্রতি আক্রোশ আছে কিন্তু নৌকার প্রতি নেই।’

আওয়ামী লীগের আরেকজন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে চাই। সে কারণে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছেন। ৩০ জানুয়ারি দেশসফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। সিলেট সফর দিয়ে তার তৃণমূলের সফর শুরু হবে। আর ২৬ জানুয়ারি ১৫ টিমে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা যাচ্ছেন তৃণমূলে। আশা করি সকল বিরোধের অবসান ঘটবে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল থাকলে অবশ্যই নির্বাচনে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। সামনে যে নির্বাচন আসছে সেটা একটা কঠিন নির্বাচন হবে। তাই সবকিছু মাথায় রেখে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে আমাদের যে সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে, সেখানে সিনিয়র নেতারা মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে জেলার নেতা ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যে কোল্ড ওয়ার চলছে তা নিরসনের চেষ্টা করবেন।

তৃণমূলের দ্বন্দ্বের অবসান না হওয়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে হবে দলের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন বলেন, ‘দ্বন্দ্ব না হলে তো ভালো। তবে এত বড় দলে দ্বন্দ্ব হবে না এটা আমি মনে করি না। তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিয়েই ৭০ বছর পার করে দিয়েছে। এতে কী আওয়ামী লীগ আটকে আছেতবে যখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে তখন তা কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধান করা হয়। আর যখন তৃণমূলের দ্বন্দ্ব তৃণমূলে শেষ হয়ে যায় তখন তা নিয়ে দলের মাথা ব্যথা থাকে না।’

‘দল সব সময় দ্বন্দ্বের উপরে উঠতে চায়। হয়তো পারে, হয়তো পারে না। এতে দলের কিছু আসে যায় না’, যোগ করেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


loading ...