পিতামাতার মৃত্যুর চার বছর পর শিশুর জন্ম

শিশুটির পিতামাতা ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন...

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
১২ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ১১:২১

হিমায়িত ভ্রূণ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) চীনে এক সারোগেট মাদারের গর্ভে জন্ম নিয়েছে এমন এক শিশু, যার পিতা ও মাতা উভয়েই চার বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে চীনের সংবাদ মাধ্যমগুলো।

১২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

শিশুটির পিতামাতা ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তারা মৃত্যুর আগে কৃত্রিম উপায়ে (ইন ভিট্রো ফারটিলাইজেশন বা আইভিএফ, আমরা যাকে টেস্টটিউব বেবি বলে থাকি) গর্ভধারণের আশায় কিছু ভ্রূণ হিমায়িত করে রেখেছিলেন। এই দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের পিতামাতা এসব ভ্রূণ থেকে সন্তান জন্মদানের অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই করেন।

দুর্ঘটনায় নিহত চাইনিজ দম্পতির ভ্রূণ নানজিং হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। সেখানে শূন্যের নিচে ১৯৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন ট্যাঙ্কে এদেরকে হিমায়িত করা হয়েছিল। আদালত ওই দম্পতির পিতামাতাকে এসব ভ্রূণ ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

নানজিং হাসপাতাল থেকে সরিয়ে লাওসের এক সারোগেসি এজেন্সিতে এই ভ্রূণ নিয়ে যাওয়া হয়, কারণ সারোগেসি উপায়ে সন্তান জন্ম দেওয়া চীনে নিষিদ্ধ। সারোগেসি হলো সেই পদ্ধতি যেখানে এক জোড়া দম্পতির ভ্রূণ অপর একজন নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং তিনি এই শিশুর জন্মের পর তাকে প্রকৃত পিতামাতার কাছে হস্তান্তর করেন। যে নারী এই শিশুকে গর্ভে ধারণ করেন তাকে বলা হয় সারোগেট মাদার।

তরল নাইট্রোজেনে রক্ষিত এই ভ্রূণ প্লেনে করেও নেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়নি। গাড়িতে করে তা লাওসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সারোগেট মাদারের গর্ভে এই ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওই শিশু জন্ম নেয়।

তিয়ানতিয়ান নামের ওই শিশুর নাগরিকত্ব নিয়েও বিতর্ক ছিল। সে যেন চীনের নাগরিকত্ব পায় এ উদ্দেশে তার সারোগেট মাদারকে চীনে নিয়ে আসা হয় এবং এখানেই তিনি শিশুটির জন্ম দেন।

শিশুটি আসলেই তাদের বংশের কিনা, তা নিশ্চিত করতে শিশুটির দাদা-দাদি এবং নানা-নানি চারজনই রক্ত দেন এবং তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় শিশুটি আসলেই তাদের নাতি।

প্রিয় জটিল/গোরা 

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন