ছবি সংগৃহীত

প্রিয় গন্তব্য: থানচির বাকলাই ঝর্ণা

বেশ দুর্গম পথ পেরিয়ে আপনি দেখা পেতে পারেন বাংলাদেশের উচ্চতম ঝর্ণাটির।

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:০৩ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০২:০০


ছবি সংগৃহীত
শোনা যায় এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্ণা। ছবি: নিজাম উদ্দীন।
 
(প্রিয়.কম): বাকলাই ঝর্ণা একসময় অসম্ভব রকম দুর্গম ছিল, গিয়ে ঘুরে আসতে সময় লাগত সাত আট দিন। এখন যাতায়াত সুবিধার কারণে এটা দু/ তিন দিনেই ঘুরে আসা সম্ভব। ৩৮০ ফুট উচ্চতা নিয়ে এটা সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু জায়গা থেকে পানি ঝরে পড়া ঝর্ণা।
 
দশ-বারো বছর আগের ঘটনা, একদল সাহসী পর্যটক বান্দরবানের গভীরে ভ্রমণ করতে যান। সে সময়ে ওদিকটায় টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে আর যাতায়াত ছিল অসম্ভব কষ্টকর। এরকম অবস্থার মাঝে প্রায় একমাসেরও বেশি সময় বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা ও পাহাড়ে তারা ভ্রমণ করেন। এই সময়েই তারা বাকলাই ঝর্ণাটি উপর থেকে আবিষ্কার করেন। যেহেতু তারা ঝর্ণাটি সামনে থেকে বা নিচ থেকে দেখেননি, তাই এটির উচ্চতা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত ছিলেন না।
 
পরবর্তীতে আরেক দল অভিযাত্রী ঝর্ণা কাছে একটি স্থানে যান এবং তারা ঝর্ণার পানি পড়ার শব্দ শুনতে পান। ঝর্ণার পানি পড়ার প্রচণ্ড শব্দ শুনে তারা শব্দের উৎস আবিষ্কারের জন্য অগ্রসর হয়ে বাকলাই ঝর্ণাটি আবিষ্কার করেন। আর এভাবেই সবার সামনে চলে আসে বাকলাই ঝর্ণা। এমনকি আজও খুব কম পর্যটকই ঝর্ণাটি দেখতে যান। বিশাল আকার আর উচ্চতা এই ঝর্ণাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
 
কোথায়: বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত এই ঝর্ণাটি। থানচি থেকে কয়েক ঘণ্টা হাঁটা দূরত্বে এই ঝর্ণাটি।
 
কীভাবে: বাকলাই ঝর্ণা থানচিতে অবস্থিত হওয়ায় আপনাকে প্রথমেই বান্দরবানে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা বাদে অন্য জেলা থেকে সরাসরি বান্দরবান বাস নাও থাকতে পারে। তখন আগে চট্টগ্রাম এসে এর পরে বান্দরবান যেতে হবে। নন এসি বাসে ভ্রমণ করলে ঢাকা থেকে বান্দরবানে যেতে খরচ হবে প্রায় ৬২০/- টাকা। এসব বাস সাধারণত রাতের বেলা ছেড়ে যায় তবে অন্য সময়েও বাসও আছে। ঢাকা থেকে সড়কপথে বান্দরবানে যেতে প্রায় ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। বাসের জন্য শ্যমলী, ইউনিক, ডলফিন, সাউদিয়া ইত্যাদি কোম্পানীর বাস পাবেন।
 
বান্দরবান থেকে বাস অথবা চান্দের গাড়িতে করে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায় প্রায় ৭৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত থানচিতে পৌঁছাতে পারবেন। থানচি বাজার থেকে বাকলাই ঝর্ণায় যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে এবং এসময় আপনাকে বেশকিছু পাড়া অতিক্রম করতে হবে যেমনঃ টুটংপাড়া, বোর্ডিং হেডম্যানপাড়া, কাইতনপাড়া ইত্যাদি। যাবার সময় পথের ভিন্নতা ভেদে আপনি পেতে পারেন বাকলাই ঝিরি ও মাঝে বেশ কিছু ছোট-মাঝারী আকারের ঝর্ণা। সেগুলো পার হয়ে পৌছবেন বাকলাই ঝর্ণার পাদদেশে, সেখানে দাঁড়াতে পারেন, পানিতে ডুব দিতে পারেন অথবা ঝর্ণার উপরে উঠতে পারেন। উঠতে চাইলে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে।
 
ঝর্ণায় যাবার পথে পাবেন দেশের সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোর একটা। ছবি: ওহীদুল আরাফাত।
 
বর্ষায় ঝর্ণার সৌন্দর্য বেড়ে যায় অনেক এটা সত্য। তবে একই সাথে ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। তাই সাবধানে থাকতে হবে অনেক। এলাকায় আর্মি ক্যাম্প থাকার কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হবে না। তবে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
 আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা
সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা
https://www.prothomalo.com/ - ১ দিন, ১৪ ঘণ্টা আগে
বলিরেখা দূর করতে কলা, লেবু ও মধু
বলিরেখা দূর করতে কলা, লেবু ও মধু
এনটিভি - ১ দিন, ১৪ ঘণ্টা আগে
ছন্নছাড়া জীবন
ছন্নছাড়া জীবন
https://www.prothomalo.com/ - ১ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে