(প্রিয়:কম) বিয়ে মানেই রাজ্যের খরচ! হৈচৈ-উৎসবে সম্পন্ন হয় সকল আয়োজনবিয়েতে নামী-দামি পার্লার থেকে মেকআপ আর প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার না হলে পরিপূর্ণই হয় না কনের সাজ। এছাড়া খ্যাতিমান ব্রাইডাল ফটোগ্রাফি পেইজ থেকে বিয়ের ছবি পোস্ট না হলে বন্ধু-বান্ধবের কাছে মান-সম্মান ক্ষুণ হয়।

আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সম্মান বজায় রাখতে অনুষ্ঠানের এই অপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় বর ও কনে দুই পক্ষকেই

এই সকল লোক দেখানো আয়োজনকে বুড়ো আঙুল দেখালেন তাসনিম জারা নামে এক বাংলাদেশি নববধূ। তথা কথিত জাঁকজমকপূর্ণ খরচের বিপরীতে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানটি করলেন একদমই সাদামাটাভাবে। যেখানে অন্য কনেরা কয়েক আস্তর মেকআপ নিয়ে বিয়ের আসরে পুতুল হয়ে বসে থাকেন, সম্প্রতি নিজের বিয়েতে এক আঁচড় মেকআপও লাগাননি তিনিএমনকি গহনা পাগল এই জেনারেশনের ক্রেজে থেকেও পরেননি একটি গয়নাও। দামী জাঁকালো শাড়ির পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন দাদীর দেওয়া সাধারণ সুতি শাড়ি। বাংলাদেশী এই নববধূ মনে করেন স্বল্প আয়ের এইদেশে এত বিশাল অংকের টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠান করাটা কেবলই বিলাসিতা 

পেশায় চিকিৎসক তাসনিম জারা, দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী একটি চ্যারিটি পরিচালনা করেন। তিনি সমাজের এই প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিজের সাদামাটা বিয়ের ছবিটি ফেইসবুকে শেয়ার করেন। ফলে প্রচুর মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তাসনিমের এই বিপরীত স্রোতের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানান।

নিজের বিয়ে প্রসঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জারা লিখেন, ‘আপনাদের মনে হয়তো  প্রশ্নটি জাগতে পারে। নিজের বিয়েতে কেন কোনো মেকআপ ছাড়া আমার দাদীর সুতি শাড়িটি পরেছি? এর উত্তর হচ্ছে ... বিয়ের সময় মেয়েদেরকে আমাদের সমাজ একগাদা মেক আপ, বেশ ভারি ওজনের শাড়ি আর অনেক গহনা পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। এতসব ভারি জিনিসের ভারে কনেকে রীতিমত নুয়ে পড়তে দেখা যায়। আর সেই শাড়ি বিয়ের পর আর তেমন একটা পরার প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের সমাজ ও পরিবার মেয়েদেরকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, মেয়েটির নিজস্ব গায়ের রং তার নিজের বিয়ের জন্য মানানসই নয় তাই তাকে মেক আপ করে নিজের সত্যিকারের চেহারা লুকিয়ে পুতুলের মত সেজে থাকতে হবে বিয়ের দিন। আর যেহেতু তুমি মেয়ে তাই তোমাকে অবশ্যই ভারি সোনার গয়নাই পরতে হবে।

পারতপক্ষ্যে এসব জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানে আমি খুব কম অংশগ্রাহণ করি। তবে আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখি, বিয়ের অতিথিদের প্রধান আলোচনার বিষয় থাকে কনেকে কত বেশি সুন্দরী দেখাচ্ছে ? কতটুকু গহনা কনে পরেছেন ? কত নামী-দামি পার্লার থেকে মেক আপ করেছে ? যার চাপে পড়ে বিয়ের পূর্বে মেয়েদেরকে ছুটতে হয় নামী-দামি পার্লারের পেছনে। এতে করে যেমন সময় নষ্ট তেমনি  নষ্ট হয় শক্তির।

বিয়েতে আমার পরিবারের অনেকেই আমার সাথে ছবি তুলতে রাজি হয়নি। কেননা আমি তাদের মত সেজে দামী পোশাক পরিনি। শুধুমাত্র অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ আমার পাশে ছিলেন আর পাশে ছিলেন আমার পাশে বসে থাকা মানুষটি যার নাম খালেদ সাইফুল্লাহ। সবার কাছে আমার দাদীর শাড়িটি খুবই সাধারণ মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে খুবই স্পেশাল। আমি মনে করি আমাদের উচিত এই সামাজিক ধারণার বাইরে চিন্তা করা।’ 

প্রায় ১ লাখ ২ হাজার লাইক, ২৬ হাজার ৮ শত শেয়ার এবং দেড় হাজার কমেন্ট আসে তাসনিমের শেয়ারকৃত বিয়ের ছবিতে।

সূত্র: এএফপি

প্রিয় জটিল/গোরা