(প্রিয়.কম) ১১৯টি দেশের মধ্যে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে (বিশ্ব ক্ষুধা সূচক) দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। সূচকে দেখা যায়, দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১৯টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তান, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান, ভারত ও উত্তর কোরিয়া। 

১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) এই বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশ করে। 

একটি দেশের মানুষ কী পরিমাণ বা কোন মাত্রায় ক্ষুধার্ত থাকে, তার ওপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স তৈরি করা হয়।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ এ।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৬.৫। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুধা সূচকে দেখা যায়, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫৩.৬, ২০০০ সালে ছিল ৩৭.৬, ২০০৮ সালে ছিল ৩২.২, ২০১৬-তে ২৭.১ এবং ২০১৭-তে এই স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৬.৫-এ।

তবে দুই ধাপ এগোলেও সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতেই। গত মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এবারই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ ভাগই খাদ্য সংকটে রয়েছে। 

সূচকে প্রতিবেশী ভারত এবং পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এবারের তালিকায় ভারতের অবস্থান ১০০তম। পাকিস্তান ১০৬তম অবস্থানে রয়েছে। তবে নেপাল (৭২তম), মিয়ানমার (৭৭তম) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৪তম) এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের (৮৮তম) থেকে।

সূচকে সবচেয়ে নিচের সারিতে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ যথাক্রমে সাদ, সিয়েরা লিওন, মাদাগাস্কার ও জাম্বিয়া। এ ছাড়া আফ্রিকার দক্ষিণ সুদান, নাইজার, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের অবস্থানও তলানিতে। তবে সেনেগাল, আজারবাইজান, পেরু, পানামা, ব্রাজিল ও চীনের উন্নতি সবচেয়ে বেশি। এই দেশগুলোসহ মোট ১৪টি দেশ সূচকে এগিয়েছে। সূচকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বেলারুশ, দ্বিতীয় বসনিয়া ও হার্জগোবিনা, এর পরের অবস্থান চিলির। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ক্ষুধা সূচকের বিষয়ে আইএফপিআরআই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডমিনিক ম্যাকসোর্লে বলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অভিঘাতের কারণে তলানিতে থাকা দেশগুলোর অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। এসব দেশের অর্ধেক মানুষই খাদ্য ঘাটতিতে রয়েছেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত