লং ট্রানজিটে বিমানবন্দরে বসে না থেকে শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন।

ট্রানজিটে বিনামূল্যে শহর ভ্রমণের সুযোগ!

ট্রানজিটে সারাদিন বিমানবন্দরে কে বা বসে থাকতে চায়! জেনে নিন এমন কিছু বিমানবন্দরের তালিকা যা আপনাকে বিনামূল্যে পুরো শহর ভ্রমণের সুযোগ করে দিবে।

উম্মে মোনতেজামা
ফিচার রাইটার, ট্রাভেল
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:৫৩ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩২
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:৫৩ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩২


লং ট্রানজিটে বিমানবন্দরে বসে না থেকে শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন।

(প্রিয়.কম): সাধারণত আমরা দীর্ঘ ট্রানজিটে আটকে গেলে বিমানবন্দরের বিলাসবহুল রেস্তোরা কিংবা টার্মিনালের গিফট শপগুলোতেই সময় কাটিয়ে থাকি। তাই বলে কি সারাদিন সেখানে বসে থাকা যায়? অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন হলেও, পৃথিবীর সব শহর কিংবা বিমানবন্দরের অবস্থা কিন্তু এমন নয়। পৃথিবীতে এমন কতগুলো বিমানবন্দর রয়েছে যারা পুরো শহর ভ্রমণের সুযোগ করে দেয় তাও আবার বিনামূল্যে! এই বিমানবন্দরগুলো ট্রানজিটে আটকে পড়া অস্থায়ী যাত্রীদের শহরের সেরা দর্শনীয় স্থান, নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরায় খাবার দাবার সহ আরামদায়ক ভ্রমণের সকল প্রকার ব্যবস্থা করে থাকে। যেহেতু ভ্রমণটি বিনামূল্যে তাই শহরে বেরুনোর আগে সকল যাত্রীদের তাদের নিজ নিজ ব্যাগ বিমানবন্দরের লকারে রাখার জন্য বলা হয়। এসময় আপনার কোনো ভিসার প্রয়োজন নেই ঠিকই কিন্তু সাথে করে পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ভুলবেন না। ভিসা ছাড়াই শহর ভ্রমণের লোভনীয় সুযোগ পেতে জেনে নিন বিমানবন্দরগুলোর তালিকা।  


সিউল ভ্রমণে পাবেন কোরীয় সংস্কৃতির স্বাদ। 

১। ইনচিয়ন বিমানবন্দর, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়াঃ
কোরিয়ান পর্যটন বোর্ড সিউলে আগত যাত্রীদের জন্য একটি নয় বরং আট প্রকারের বেশ কয়েকটি ভ্রমণ গাইডলাইনের প্রস্তাব দিয়ে থাকে। এক ঘণ্টার ট্রানজিটে যাত্রীরা ১৩৭৬ সালে নির্মিত ইয়ংগুনজা বৌদ্ধ মন্দিরটি দেখতে পারবেন। যাদের হাতে আর একটু সময় আছে তাদের জন্য আরও কিছু বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এয়ারপোর্টে ফিরে যাওয়ার আগে দুই ঘণ্টায় আপনি ইয়ংগুনজা মন্দির ছাড়াও হিঙ্গরিউনসা মন্দির, ইনচিয়ন গ্র্যান্ড ব্রীজ এবং মেমোরিয়াল হল ঘুরে দেখতে পারবেন। যারা মূল শহরের বাইরে যেতে চান তারা তিন ঘণ্টায় গুয়াংমেয়ং গুহা দেখে আসতে পারেন। চার ঘণ্টায় আপনি সন্ধোকো শহরে ঘুরতে চাইলে সঞ্জো সেন্ট্রাল পার্ক, ওশান স্কোপ ও সিঙ্গি মার্কেট ঘুরে আবার বিমানবন্দরে ফিরতে পারবেন। সিউল শহর দেখতে হলে আপনাকে পাঁচ ঘণ্টার চারটি ফিচারের মধ্যে একটি গাইডলাইন বেছে নিতে হবে। এই শহরের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বুখুন হানোক গ্রাম, এন সিউল টাওয়ার, সামচোং-দং অঞ্চল এবং গুয়াংজং বাজার। আর যাদের হাতে একদমই সময় নেই তারা চিন্তা করবেন না। বিমানবন্দরে বসেই আপনি সিউল শহরের স্বাদ পেতে পারেন। ইনচিয়ন বিমানবন্দরের ভেতরেই রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রাফট গ্যালারী যেখানে আপনি স্ট্রিট শো ও ক্লাসিক কনসার্টের মাধ্যমে কোরীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। এই গ্যালারী শুধুমাত্র সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে। মনে রাখবেন, ভ্রমণের সময় এন্ট্রি পারমিট ও খাবারের জন্য আপনাকে আলাদাভাবে দশ ডলার পরিশোধ করতে হবে।  


তাইওয়ানে আগত যাত্রীরা খুব সহজেই বিনামূল্যে পুরো শহর ঘুরে দেখতে পারবেন। 

২। তাইওয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তাইপেই, তাইওয়ানঃ
সাত থেকে চব্বিশ ঘণ্টার ট্রানজিটে যাত্রীরা পরবর্তী ফ্লাইটে যাওয়ার আগে সকাল কিংবা দুপুর যেকোনো একবেলায় পুরো শহর ভ্রমণ করতে পারবেন। তাইওয়ান শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউকে থেকে আগত যাত্রীদের বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য ভিসা ছাড়ের অনুমতি দিয়ে থাকে। আপনি যদি এসব দেশের নাগরিক না হয়ে থাকেন তাহলে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভিসার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে নিন। ভ্রমণের জন্য বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২ এর লবিতে অবস্থিত ট্যুরিস্ট সেবা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সুবিধা আছে। সকালের সফরে থাকছে- দাউইস্ট সানজিয়া কিংসউই জুশি মন্দির পরিদর্শন। সেই সাথে থাকছে সানজিয়া শহরের প্রাচীন রাস্তা, জাপানি রাজবংশের বারোক স্থাপত্য আর তাইওয়ানের ঐতিহাসিক মৃৎ শিল্প। বিকেলের দিকে পর্যটকরা পর্যায়ক্রমে চীনা মন্দির শিল্পের অন্যতম লংশান মন্দির এবং চিয়াং কাই-শেক মেমোরিয়াল হল ও পার্ক ঘুরতে পারবেন। আর হ্যাঁ, প্রতিজন যাত্রী শুধুমাত্র যেকোনো একটি ফিচার বেছে নিতে পারবেন। 


ইসলামিক শিল্প যাদুঘর ও সৌক ওয়াকিফ, দোহা। 

৩। দোহা বিমানবন্দর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ
কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রীদের জন্য দোহা বিমানবন্দর তিন ঘণ্টায় বিনামূল্যে শহর ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে। যা আপনাকে ইসলামী শিল্প যাদুঘর, পার্ল-কাতার এবং সৌক ওয়াকিফে নিয়ে যাবে। সাথে থাকবেন একজন ইংরেজিভাষী ট্যুর গাইড। দুই ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট করে প্রতিদিন মোট চারটি ট্যুরের ব্যবস্থা আছে এখানে। একেকটি ট্যুরে সর্বোচ্চ ২২ জনের অনুমতি দেয়া হয়। ট্যুর স্পটগুলি দোহা শহরের মন্ট ব্ল্যাঙ্ক এবং স্মিথের দোকানগুলির মধ্যে কনকোর্স বি এর শুরুতে অবস্থিত।


ইস্তানবুল এয়ারপোর্টের কাছেই রয়েছে গ্র্যান্ড বাজার ও হিপোড্রোম স্কয়ার। 

৪। আতাতুর্ক বিমানবন্দর, ইস্তানবুল, তুরস্কঃ
তুর্কি এয়ারলাইন্সের ৬-২৪ ঘণ্টার ট্রানজিট যাত্রীরা বিনামূল্যে ইস্তানবুল শহর ঘুরতে পারবেন। ভ্রমণের জন্য আপনাকে কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট আগে এরাইভাল হলের হোটেল ডেস্কে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত ট্যুরটি সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিডিউলে ভাগ করা আছে। তুর্কি এয়ারলাইন্স পরামর্শ দেয় যে আপনার নির্ধারিত ফ্লাইটের অন্তত এক ঘন্টা আগে থেকে বোর্ডিং এর জন্য প্রস্তুত থাকুন। তাই ভ্রমণের পরে কাস্টমস ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রাখুন যাতে করে ঠিক সময়ে ফ্লাইটটি পেতে পারেন। ইস্তানবুল শহর ভ্রমণের এই কার্যক্রম মূলত ট্রানজিট সময়ের উপর নির্ভর করে। গন্তব্য তালিকার মধ্যে কনস্ট্যান্টিনের দেয়াল, গ্র্যান্ড বাজার, হিপোড্রোম স্কয়ার, হাগিয়া সোফিয়া এবং ব্লু মসজিদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তুর্কি আতিথেয়তায় ভ্রমণে আগত অতিথিরা সফরের সময় অনুযায়ী বিনামূল্যে লাঞ্চ বা ডিনার উপভোগ করতে পারবেন।


পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় শহর সিঙ্গাপুর। 

৫। চেঙ্গি বিমানবন্দর, সিঙ্গাপুরঃ
কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার সিঙ্গাপুরের ট্রানজিট যাত্রীরা চেঙ্গি বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর শহর ঘুরতে বেরুতে পারেন। দুই ভাগে বিভক্ত এই ভ্রমণে অংশগ্রহণের জন্য মোটামুটি ছয় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো দেখতে হলে আপনাকে শহরের লিটল ইণ্ডিয়া ও কাম্পং গ্লাম সহ বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করতে হবে। এছাড়া মেরিলন পার্কও ঘুরে আসতে পারেন যেখানে শহরটির পৌরাণিক পশুর মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। যদি শহরের ভেতরের অংশ ঘুরে দেখতে চান তাহলে আপনাকে সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার এবং মেরিনা বে ফিনান্সিয়াল সেন্টারে যেতে হবে। ভ্রমণের আগে আপনার ব্যাগটি টার্মিনাল ১ এর ট্রানজিট সেকশনের লকারে রাখুন এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য টার্মিনাল ২ এ যান।  

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্যঃ 
মনে রাখবেন, ক্রেডিট কার্ডগুলো ভ্রমণের সময় বিদেশী লেনদেনে কিংবা যেকোনো ফি পরিশোধে ব্যবহার করবেন না। ছুটিতে থাকার সময় গন্তব্যস্থানে এসবের সদ্ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত খরচগুলো যেমন- মিউজিয়াম ফি, গ্যালারী ফি বার বার চেক করে নিন। সবসময় প্যাকেটজাত খাবার সাথে রাখুন। মিউজিয়াম লাগোয়া দোকান থেকে খাবার কেনার চেয়ে বিমানবন্দরের ভেতরের ফুড কোর্টের খাবার অনেক সস্তায় পাবেন। আর যদি আশেপাশে কোনো বাজার পেয়ে যান তাহলে সেখান থেকেই কিনতে পারেন। আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো পরীক্ষা করে নিন। সাধারণত বিমানবন্দরে আপনার আগের এবং পরবর্তী ফ্লাইটের টিকিট দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট শিডিউল সম্পর্কে ভালোমতো খোঁজখবর নিন। 

সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে-https://www.priyo.com/post