প্রতীকী ছবি

জাতিসত্তার দর্পণ বই

সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটেছে। তাই সময়ের নির্ভরতায় বলা যায়, এখন আর সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে বই পোড়ানোর দরকার নেই, স্রেফ মানুষকে বই পড়া থেকে বিরত রাখলেই হলো।

এস এম ইকরাম হোসাইন সোহাইল
লেখক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০১৮, ২২:২৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:০০
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০১৮, ২২:২৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:০০


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) ‘একটি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে হলে তাদের বইগুলো পুড়িয়ে দাও’ উক্তিটি বহুল প্রচলিত। অসংখ্য সভ্যতা ও জাতিকে ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে শত্রুপক্ষ এই উক্তিকে কাজে লাগিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ স্পেন ও মিসরীয় ইসলামী গৌরবের শাসনামল অবসানের কথা আমরা জানি।

শত বছরের চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ ইউরোপীয় ক্রুসেডররা স্পেন ও মিসরীয় সভ্যতা ধ্বংস করেছিল তাদের অশ্লীল সংস্কৃতি অনুপ্রবেশ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও জাদুঘরে সংরক্ষিত ইসলামী ইতিহাস ও গবেষণাসমৃদ্ধ বইগুলো পোড়ানোর মাধ্যমে। এর ফলে ইতিহাসের অতল গহ্বরে বিলীন হয়েছে মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সহস্র গৌরবগাঁথা।

যেখান থেকে বেঁচে যাওয়া ছিঁটেফোঁটা তত্ত্ব থেকে আজ আমরা জানতে পারি, রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের নাম, বীজগণিতের জনক আল খোয়ারেজমির নাম, চিকিৎসা শাস্ত্রে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের উপায় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবী নতুন রোগের বিস্তার নিয়ে দেড় হাজার গ্রন্থ রচয়িতা, সর্বপ্রথম অস্ত্রোপচার/সার্জারি সম্পাদন করা শল্য চিকিৎসাবিদ্যার জনক ইবনে সিনার নাম। আমরা জানতে পারি, বিবর্তনবাদের জনক আল হাসনাঈর কথা, আমরা শুনেছি জ্যামিতিতে অনন্য অবদানকারী আল বিরুনীর ইতিকথা। আমরা আরও জেনেছি সর্বপ্রথম ভৌগোলিক মানচিত্র  অঙ্কনকারী ইবনে ইউনুস, ফরগানী, বাত্তানীসহ ৬৯ জন মুসলিম ভূগোলবিদের নাম।

‘বাইবেল, দ্য কোরআন অ্যান্ড সাইন্স’ গ্রন্থে ড. মরিস বুকাইলি উল্লেখ করেন, ‘অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞানকে অনেক ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। যখন খ্রিস্টীয় জগতে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছিল, তখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বহুসংখ্যক গবেষণা ও আবিষ্কার সাধিত হয়। কর্ডোভার রাজকীয় পাঠাগারে চার লাখ বই ছিল। ইবনে রুশদ তখন সেখানে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দেশীয় বিজ্ঞানে পাঠদান করতেন, যার কারণে সারা ইউরোপ থেকে পণ্ডিতরা কর্ডোভায় পড়তে যেতেন, যেমন আজকের দুনিয়ায় মানুষ তাদের শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য আমেরিকা যায়।’

যাহোক, সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটেছে, সমান্তর ধারায় ঘটছে ক্রমবিনাশ। তাই সময়ের নির্ভরতায় বলা যায়, এখন আর সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে বই পোড়ানোর দরকার নেই, স্রেফ মানুষকে বই পড়া থেকে বিরত রাখলেই হলো। এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত বর্তমান বাঙালি তরুণ প্রজন্ম। খোদ নিজের মাঝেই বই পড়ার সেই পুরনো অভ্যাসটা খুঁজে পাই না। তবে ইচ্ছেটা হারিয়ে যায়নি। তাই পড়ি বা না পড়ি, সংগ্রহ করি। কারণ প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, ‘বই কিনলেই যে পড়তে হবে এমন নয়, বই আহরণ করা যায়। একটি বই আহরণ করা মানে আনন্দকে আহরণ করা।’

তাই আসুন বই পড়ার অভ্যাস গড়ি, বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানি, নিজস্ব জাতিস্বত্তাকে আঁকড়ে ধরি,আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে মুক্ত করি সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে। আসুন গড়ি তুলি এক বইপ্রেমী প্রজন্ম।

[প্রকাশিত লেখা ও মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]