(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ অর্জন রানার আপ। সেটাও চিটাগং কিংস নামে। তৃতীয় আসরে নাম পরিবর্তন করে চিটাগং ভাইকিংস নামে আত্মপ্রকাশ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের এই দলটি। নতুন নামেও খেলেছে দু'টি আসর। দুই আসরে ভাইকিংসদের সর্বোচ্চ অর্জন এলিমিনেটর ম্যাচ পর্যন্ত। সর্বশেষ আসরে এলিমিনেটর ম্যাচে রাজশাহী কিংসের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় দলটি। কিন্তু পঞ্চম আসরে রানার আপ হওয়ার সান্ত্বনা কিংবা এলিমিনেটর ম্যাচ হেরেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় না চিটাগং ভাইকিংস। ফাইনালের টিকেট কেটে ঘরে তুলতে চায় শিরোপা।

শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এবার ঘরের ছেলে তামিম ইকবালকে পাচ্ছে না চট্টগ্রাম। কারণ আসন্ন পঞ্চম আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে নতুন ঠিকানা গড়েছেন দেশসেরা এই ওপেনার। তামিমকে না পেয়ে আইকন প্লেয়ার হিসেবে সৌম্য সরকারকে দলে ভিড়িয়েছে দলটি। গেল আসরে রংপুর রাইডার্সের আইকন প্লেয়ার ছিলেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। এছাড়া গেল আসরে চিটাগংয়ের হয়ে খেলা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়, পেসার তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিষ রায়কে ধরে রেখেছে দলটি।

প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগে নিউজিল্যান্ডের লুক রনচি, ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন, শ্রীলঙ্কার জীবন মেন্ডিস, দিলশান মুনাবীরা, জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্মেইন ব্ল্যাকউড ও পাকিস্তানের মিসবাহ উল হককে দলে ভেড়ায় চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরপর প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে দলে ভেড়ায় ইংল্যান্ডের লুইস রেকি ও আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জারদানকে। স্থানীয় প্লেয়ারদের মধ্যে পঞ্চম আসরে চট্টগ্রামের হয়ে খেলবেন সানজামুল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, তানভীর হায়দার খান, আল আমিন জুনিয়র, ইরফান শুক্কুর, নাঈম হাসান এবং ইয়াসির আরাফাত মিশু। এবারের আসরে সবচেয়ে কম বাজেটের দল গড়েছে চিটাগং। দেশি এবং বিদেশি খেলোয়াড় কিনতে সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের খরচ হয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে দেশি খেলোয়াড়দের পেছনে তারা খরচ করেছে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর বিদেশি খেলোয়াড় কিনতে তারা খরচ করেছে ২৪ লাখ টাকা।

বিপিএলের পঞ্চম আসরের জন্য চিটাগং ভাইকিংসের চূড়ান্ত দল। ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলের পঞ্চম আসরের জন্য চিটাগং ভাইকিংসের চূড়ান্ত দল। ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলে চট্টগ্রামের পথচলা শুরু ২০১২ সালে। সেবার চিটাগং কিংস নামে টুর্নামেন্টে অংশ নেয় তারা। ওই আসরে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম আসরে চট্টগ্রামের জার্সিতে খেলেছেন তামিম ইকবাল, শামসুর রহমান শুভ, জিয়াউর রহমান, জহুরুল ইসলাম অমি, আবুল হাসান রাজু, আরাফাত সানি, ফরহাদ রেজা, সানজামুল ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র এবং ফয়সাল হোসেন। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলেন জেসন রয়, নাসির জামশেদ, কাইল কয়েটজার, ব্রেন্ডন টেলর, লেন্ডল সিমন্স, শোয়েব মালিক, ডোয়াইন ব্রাভো, স্কট স্টাইরিস, কেভন কুপার, মুত্তিয়া মুরালিধরন ও জেরম টেলর।

দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি দলটি। দশ ম্যাচের মধ্যে জয়ের দেখা পেয়েছে পাঁচটিতে। এই পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। ১০ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৩২৮ রান করে টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন চিটাগংয়ের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান নাসির জামশেদ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেন এনামুল হক জুনিয়র। নয় ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন বাঁ-হাতি এই স্পিনার। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ সাতটি করে ক্যাচ নেন ইংল্যান্ডের জেসন রয় ও বাংলাদেশের জিয়াউর রহমান। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তালুবন্দী করেন ছয়টি ক্যাচ।

সিলেট পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচী। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচি। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরেও চিটাগংকে পথ দেখান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেবার ১২ ম্যাচে জয়ের দেখা মেলে ছয়টিতে। ছয় জয়ে ১২ নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকায় খেলতে হয়েছে এলিমিনেটর ম্যাচ। পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা দুরন্ত রাজশাহীর মুখোমুখি হয় তারা। রাজশাহীকে চার উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করে সেমি ফাইনাল। সেমি ফাইনালে সিলেট রয়্যালসকে তিন উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকেট। কিন্তু ফাইনালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের। ঢাকার দেওয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় চিটাগং। ফলে ৪৩ রানের পরাজয়ে রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে।

দ্বিতীয় আসরে চিটাগংয়ের জার্সিতে বিপিএল মাতিয়েছেন রায়ান টেন ডেসকাট, কেভন কুপার, রবি বোপারা, ডেভিড মিলার, জেসন রয়, জ্যাকব ওরাম, শন টেইট ও ব্রেন্ডন টেলরের মতো বিদেশি তারকারা। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দলে ছিলেন আফতাব আহমেদ, আরাফাত সানি, এনামুল হক জুনিয়র, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, মার্শাল আইয়ুব, নাঈম ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। এই আসরে 'লোকাল বয়' তামিমকে দলে পায়নি চিটাগং। দ্বিতীয় আসরে দুরন্ত রাজশাহীর জার্সিতে খেলেছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩২ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন নেদারল্যান্ডসের ডেসকাট। এবারও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেন এনামুল হক জুনিয়র। ১৫ ম্যাচে বাঁ-হাতি এই স্পিনার দখল করেন ১৮ উইকেট। যেটা ওই আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ঢাকা পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচি। ছবি: সংগৃহীত

মালিকানা বদল না করলেও তৃতীয় আসরে নামে পরিবর্তন আনে চিটাগং। চিটাগং ভাইকিংস নামে আত্মপ্রকাশ করে ডিবিএল গ্রুপের মালিকানাধীন দলটি। দলে ফেরানো হয় লোকাল বয় এবং দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। দলেও ছিলেন নামীদামী ক্রিকেটার। কিন্তু সেবার মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে হয় তাদের। তারকাখচিত দল গড়েও মুখ থুবড়ে পড়ে চিটাগং। ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু'টিতে মিলেছে জয়ের দেখা। এই দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে তামিম ইকবালের দল।

নয় ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৯৮ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থান ছিলেন অধিনায়ক তামিম। ১০ ম্যাচে ২৬০ রান নিয়ে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন চিটাগংয়ের লঙ্কান তারকা তিলকরত্নে দিলশান। এই আসরে চিটাগংয়ের জার্সিতে খেলেছেন এনামুল হক বিজয়, এলটন চিগুম্বুরা, তিলকরত্নে দিলশান, ইলিয়াস সানি, এনামুল হক জুনিয়র, কামরান আকমল, উমর আকমল, চামারা কাপুগেদারা, জীবন মেন্ডিস, মোহাম্মদ আমির, নাঈম ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, সাঈদ আজমল, জিয়াউর রহমান ও শফিউল ইসলামের মতো তারকারা।

চট্টগ্রাম পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচী। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচের সময়সূচি। ছবি: সংগৃহীত

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে তামিমের নেতৃত্বেই বিপিএলের চতুর্থ আসরে অংশ নেয় চিটাগং। অন্যান্য ক্রিকেটাররা ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে দলকে টেনেছেন তামিম ইকবাল একাই। ১৩ ম্যাচে দলের এই ড্যাশিং ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪৭৬ রান। ছয় ম্যাচে পেয়েছেন ছয় হাফ সেঞ্চুরির দেখা। এছাড়া বল হাতে দলকে সমর্থন যুগিয়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ১৩ ম্যাচে ১৯ উইকেট তুলে নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে জায়গা করে নেন এই আফগান অফ স্পিনার।

১২ ম্যাচে জয়ের দেখা মেলে ছয়টিতে। ছয় জয়ে ১২ নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকায় চিটাগংকে খেলতে হয় এলিমিনেটর ম্যাচ। কিন্তু এই ম্যাচে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাজশাহী কিংসের কাছে তিন উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা। এবার আর তৃতীয় বা চতুর্থ হতে নয়, চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরতে চায় তারা। যদিও সে পথে তাদের কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে। কারণ এবার শক্তিশালী দল গঠন করতে পারেনি তারা। 

প্রিয় স্পোর্টস/ শান্ত মাহমুদ