(প্রিয়.কম) ‘লাগলে বাড়ি, বাউন্ডারি!’ নাম পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলেছে দলের স্লোগান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম দুই আসরে সিলেটের নাম ছিল সিলেট রয়্যালস। তৃতীয় আসরে বদলে যায় দলটির মালিকানা ও নাম। ২০১৫ সালের আসরে এই দলটির নাম রাখা হয় সিলেট সুপারস্টার্স। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি সংক্রান্ত জটিলতায় বিপিএলের সর্বশেষ আসরে খেলা হয়নি সিলেটের।

মালিকানা বদলে আবারও বিপিএলে ফিরছে সিলেট। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দলটির মালিকানা পরিবর্তন হল। পঞ্চম আসরে নতুন মালিকানা ও নতুন নামে বিপিএলে অংশ নিচ্ছে সিলেট। যদিও বিপিএলে সিলেটের এই দলটিকে নিয়ে দুঃখের অন্ত ছিল না। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিপিএলে তিনবার অংশ নিলেও দলটির মালিকানা ছিল না সিলেটবাসীর কাছে।

ফলে দল নিয়ে তেমন কোনও আগ্রহ ছিল না সিলেটবাসীর। বরং ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল। তবে বিপিএলের পঞ্চম আসরে এসে সেই ক্ষোভ মিটছে তাদের। এবার দলটির মালিকানা থাকছে সিলেটেই। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছেলে শাহেদ মুহিত। যদিও ফেরার অপেক্ষায় থাকা সিলেটকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। আর সেটা নামকরণ নিয়ে।

সিলেট সিক্সার্সের লোগো উন্মোচন। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সিক্সার্সের লোগো উন্মোচন। ছবি: সংগৃহীত

নাম পরিবর্তন করে 'সুরমা সিক্সার্স' নামে ফিরতে চেয়েছিল সিলেটের নতুন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। জানানো হয়, দলের নামের সাথে অবশ্যই সিলেট থাকতে হবে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের আপত্তির কারণে ‘সিলেট সিক্সার্স’ নামে বিপিএলের পঞ্চম আসরে অংশ নিচ্ছে দলটি।

পঞ্চম আসরে সিলেট সিক্সার্সের প্লেয়ার তালিকা। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চম আসরে সিলেট সিক্সার্সের প্লেয়ার তালিকা। ছবি: সংগৃহীত

এবারের আসরের জন্য আইকন প্লেয়ার হিসেবে সাব্বির রহমানকে বেছে নিয়েছে তারা। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে রয়েছেন নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শুভাগত হোম চৌধুরী, নাবিল সামাদ, মোহাম্মদ শরিফ, ইমতিয়াজ হোসেন তান্না ও মোহাম্মদ শরিফুল্লাহ। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দাসুন শানাকা, ভানিদু হাসারাঙ্গা, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জেমস হুইটলি, উসমান খান শেনওয়ারি, বাবর আজম, আন্দ্রে ফ্লেচার, ক্রিসমার সান্টোকি, আন্দ্রে ম্যাকার্থি, ডেভি জ্যাকবস, রিচার্ড লেভি, চতুরঙ্গ ডি সিলভা ও গোলাম মোদাসসর খানকে দলে ভিড়িয়েছে সিলেট।

এবারের আসরে দেশি এবং বিদেশি খেলোয়াড় কিনতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছে সিলেট। এর মধ্যে দেশি খেলোয়াড়দের পেছনে তারা খরচ করেছে দুই কোটি তিন লাখ টাকা। বিদেশি খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে মাত্র ৩২ লাখ টাকা খরচ করেছে সিলেট। খরচের দিক দিয়ে সাত দলের মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে তারা।

সিলেট সিক্সার্সের ম্যাচের সময়সূচী। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সিক্সার্সের ম্যাচের সময়সূচী। ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলে সিলেটে পথচলা শুরু ২০১২ সালে। সেবার সিলেট রয়্যালস নামে টুর্নামেন্টে অংশ নেয় তারা। প্রথম আসরে সিলেটের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন ইংল্যান্ডের পিটার ট্রেগো। দলের মালিকানায় ছিল ওয়ালটন গ্রুপ। ওই আসরে ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু'টিতে জয়ের দেখা পায় সিলেট। দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে দলটি। সিলেটের জার্সি গায়ে ১০ ম্যাচে ৩৫৬ রান করে ওই আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন পাকিস্তানের কামরান আকমল। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে পান হাফ সেঞ্চুরির দেখা। এছাড়া সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন আরেক পাকিস্তানি সোহেল তানভীর।

দ্বিতীয় আসরে আইকন প্লেয়ার হিসেবে মুশফিককে দলে ভেড়ায় সিলেট। ওই আসরে মুশফিকের নেতৃত্বে ১২ ম্যাচের মধ্যে নয়টিতেই জয়ের দেখা পায় দলটি। নয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিলেট। কিন্তু কোয়ালিফায়ারে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে চার রানে হেরে যায় দলটি। এই হারের পরও সিলেটের সামনে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি মুশফিকের দল। চিটাগং কিংসের বিপক্ষে তিন উইকেট হেরে সিলেটের স্বপ্নভঙ্গ হয়। ওই আসরের সর্বোচ্চ ৪৪০ রান আসে অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাট থেকে। ১৩ ম্যাচে ৪০.৪০ গড় ও তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৪০ রান করেন তিনি। ১৩ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন সিলেটের মোহাম্মদ নবী।

লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সিলেট সিক্সার্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলটির আইকন প্লেয়ার সাব্বির রহমান ও তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সিলেট সিক্সার্সের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে দলটির আইকন প্লেয়ার সাব্বির রহমান ও তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় আসরে সিলেটের মালিকানা পায় আলিফ গ্রুপ। দলটির নামকরণ করা হয় সিলেট সুপারস্টার্স। নাম ও মালিকানা বদলালেও এই আসরে সিলেটেকে পথ দেখান মুশফিকই। কিন্তু এবার মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয় মুশফিককে। প্রথম আসরের মতো মুখ থুবড়ে পড়ে দলটি। ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয়ের দেখা পায় সিলেট। তৃতীয় আসরে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি সিলেটের কোনও ক্রিকেটারও। শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহক কিংবা উইকেট শিকারির তালিকায় ছিলেন না দলটির কোনও ক্রিকেটার।

বিপিএলের তৃতীয় আসরে অংশ নেয়া ছয়টি দল থেকে চতুর্থ আসরে বাদ দেয়া হয় সিলেট রয়্যালসকে। দেনা-পাওনা সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যেতে হয় তাদেরকে। তবে পঞ্চম আসরে আবারও ফিরেছে সিলেটের দলটি। আরেকবার মালিকানা এবং নাম বদলে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছে তারা। এবার আর প্রথম বা তৃতীয় আসরের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না দলটি। কিংবা দ্বিতীয় আসরের মতো সেমি ফাইনাল থেকেও ছিটকে পড়তে চায় না। লিগ পর্ব, কোয়ালিফায়ার, এলিমিনেটর বা সেমি ফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালের টিকেট কাটার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা। ফাইনালের টিকেট কেটে আবার রানার আপ হয়েও ফিরতে চায় না! ঘরে তুলতে চায় শিরোপা।

প্রিয় স্পোর্টস/ শান্ত মাহমুদ