(প্রিয়.কম) গর্ভাবস্থার নয়টি মাস পেরিয়ে জন্ম নেয় সন্তান। শরীর হালকা করতে অনেকে ডায়েটিং এর চিন্তা করেন। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, সন্তানকে ব্রেস্টফিডিং করানোর সময়ে আপনার পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া বজায় রাখতে হবে। অনেকেই অভিযোগ করেন, সন্তান যথেষ্ট দুধ পায় না। এ ব্যাপারে আমরা কথা বলি আল শাফি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুৎফুন্নাহার নিবিড়ের সাথে। তিনি আমাদের জানান, সন্তানকে ব্রেস্টফিডিং করানোর সময়ে কিছু খাবার খুব উপকারী। তেমনি আবার কিছু কিছু জিনিস খাওয়ার ব্যাপারে থাকতে হবে সতর্ক। 

কী কী খাওয়া জরুরী

১) পানি

এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। ব্রেস্টফিডিং করাচ্ছেন এমন মায়েদের ডিহাইড্রেশন হবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও দুধের উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য বেশি করে পানি পান করা জরুরী। পানির পাশাপাশি গরুর দুধ এবং জুস পান করতে পারেন। তবে চা-কফি পান না করাই ভালো। 

২) দুগ্ধজাত খাবার

দুধ, দই, পনীর এসব খাবার আপনার সুস্থ থাকার জন্য জরুরী। বেশি করে দুগ্ধজাত খাবার খেলে বাচ্চা বেশি দুধ পাবে। দৈনিক অন্তত তিন কাপ দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩) ভিটামিন সি-যুক্ত ফল

ভিটামিন সি-যুক্ত ফল এই সময়ে আপনার জন্য দারুণ। গর্ভাবস্থার চাইতেও এই সময়ে শরীরে ভিটামিন সি বেশি দরকার হয়। আপনি কমলা বা কমলার জুস পান করতে পারেন। এর পাশাপাশি পাকা আনারসও খুবই ভালো একটি খাবার এ সময়ের জন্য। 

৪) আয়রনযুক্ত খাবার

পালংশাক, কচু, কাঁচকলা, কলিজা এসব খাবারে আয়রন বেশি থাকে বলে তা আপনার জন্য উপকারী। ব্রেস্টফিডিং করা মায়েরা অনেক সময়েই পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। তাদের জন্য এসব আয়রন-রিচ খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। 

পানি

প্রচুর পানি পান করতে হবে। ছবি: নূর

কী কী খাওয়া যাবে না

১) ক্যাফেইন

চা, কফি, চকলেট এবং কিছু কিছু কোমল পানীয়তে থাকে ক্যাফেইন। ক্যাফেইন তিনটি কারণে ব্রেস্টফিডিং এর সময়ে পান করা উচিৎ নয়-

- ক্যাফেইন ডাইইউরেটিক। এর কারণে প্রস্রাব বেশি হবে কিন্তু বাচ্চা দুধ পাবে না। 

- ক্যাফেইন মায়ের শরীর থেকে দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে গিয়ে ক্ষতি করতে পারে।

- পুষ্টি উপাদান শোষণে বাঁধা দিতে পারে ক্যাফেইন।

২) ওষুধ

এ সময়ে খাওয়া ওষুধ দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে চলে যেতে পারে। এ কারণে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। 

৩) অ্যালার্জি তৈরি করে এমন খাবার

মায়ের যদি কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে তা খাওয়া যাবে না। এর কারণে শিশুরও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

কফি

চা, কফি, চকলেট এবং কিছু কিছু কোমল পানীয়তে থাকে ক্যাফেইন। ছবি: নূর

কী কী কাজ করা যাবে না

১) শুয়ে দুধ খাওয়ানো যাবে না। শুয়ে দুধ খাওয়াতে গেলে অনেক সময়ে দুধ গড়িয়ে বাচ্চার কানে চলে যায় এবং এ থেকে ইনফেকশন হতে পারে। বসে বা বাচ্চাকে একটু উঁচু করে ধরে দুধ খাওয়াতে হবে।

২) দুধ কম এলেও বাচ্চাকে খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। অনেক মা অভিযোগ করেন, বাচ্চা দুধ পাচ্ছে না এবং এ কারণে তারা বাচ্চাকে দুধ দেওয়ারও চেষ্টা করছেন না। এটা করা যাবে না। বাচ্চাকে দুধ দিয়ে রাখতে হবে এবং একটা সময় পর শরীর নিজে থেকেই দুধ উৎপাদন করতে থাকবে।

৩) সঠিক উপায়ে খাওয়াতে হবে। অনেকে বাচ্চার মুখে শুধু নিপল দিয়ে খাওয়ান। সেক্ষেত্রে নিপল ক্র্যাক হয়ে ব্যথা হতে পারে। এর আশেপাশে যে গাড় রঙের ত্বক বা অ্যারিওলা থাকে তাও বাচ্চার মুখে দিতে হবে।

অনেক সময়ে দেখা যায়, সবুজ শাকসবজি খাওয়ার ফলে বাচ্চার মল সবুজ হয়ে যায়। সেটা খারাপ নয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে টানা সন্তানের মল সবুজ থাকলে এবং তার পাশাপাশি মলের সাথে মিউকাস (আমাশার মতো) গেলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

ডাঃ নিবিড় আরো জানান, ব্রেস্ট ফিডিং করানোটা অনেক দিক দিয়েই মায়ের জন্য উপকারী হতে পারে। গর্ভাবস্থায় যে ওজন বাড়ে, তা ঝরানোর জন্য ডায়েট বা জিম করার দরকার হয় না, বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং করানোই এক্ষেত্রে যথেষ্ট। আর এতে মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকিও কম হয়। আর বাচ্চাকে বুকে নিয়ে দুধ দিলে মা ও শিশুর মাঝে মমতার বন্ধনটাও হয় দৃঢ়।

সম্পাদনা : রুমানা বৈশাখী