(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে। ১৩ নভেম্বর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের কেরানীনগর মধ্যমপাড়া গোলাবাড়ি বিওপি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাংলাদেশের কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফ ফাঁকা গুলি চালিয়ে হামলা করে। সে সময় তিন বিজিবি সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে বিএসএফ।  পরবর্তীতে এ ঘটনা দুইদেশের অধিনায়করা পতাকা বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই নারী চোরাকারবারিদের ধরতে বাংলাদেশ সীমান্তের তিনশ গজ ভেতের ঢুকে পড়ে বিএসএফের এক সদস্য। সে সময় বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগের ফিরোজ নামের এক সদস্য বিএসএফ সদস্যকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে প্রবেশ ও তাদের আটকের কারণ জিজ্ঞাসা করেন।

এতে ওই বিএসএফ সদস্য ও ভারতের ৮-১০ জন স্থানীয় লোক বিজিবির গোয়েন্দা সদস্য ফিরোজকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। পরে বিএসএফ সদস্যকে ধরে স্থানীয় গোলাবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাংলাদেশিরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার একপর্যায়ে ভারতের ৪০-৫০ জন লোক ও বিএসএফ’র ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র সদস্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। টহলরত দুই বিজিবি সদস্য ও বিজিবির গোয়েন্দা সদস্য ফিরোজকে বেধড়ক মারধর করেন।

এছাড়া এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিএসএফ ফাঁকা গুলি চালায়। স্থানীয় বাংলাদেশিরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে বিএসএফ ও ভারতীয় লোকজন পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিন বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-১০ বিজিবির কর্মকর্তারা।

১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এ ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, অধিনায়ক পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ প্রতিনিধিরা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আশরাফ