(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রণ কমিশন আয়োজিত ফোরজি তরঙ্গের নিলামে পাঁচ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা আয় করেছে সরকার।

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির (ফোরজি) নিলামে অংশ নিয়ে ১০.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক। এর মধ্যে ১৮০০ ব্যান্ডের ৫.৬ মেগাহার্টজ (প্রতি মেগাহার্টজ ৩১ মিলিয়ন ডলারে) এবং ২১০০ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ (প্রতি মেগাহার্টজ ২৭ মিলিয়ন ডলারে) তরঙ্গ কিনেছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক।

১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত এই নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারসহ বিটিআরসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। নিলামে অংশ নেয় দেশের দুই বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক।

নিলামের জন্য বেইজ প্রাইস হিসেবে ২১০০ মেগাহার্টজে প্রতি মেগাহার্টজের জন্য ধরা হয়েছে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৮০০ ও ৯০০ মেগাহার্টজের জন্য ধরা হয়েছে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখান থেকে নিলাম শুরু হয়।

নিলামের প্রথম ফেইজের প্রথম রাউন্ডে ২১০০ মেগাহার্টজের জন্য টেবিল-২ থেকে অংশ নেয় বাংলালিংক। প্রথম রাউন্ডে বিড প্রাইস ধরা হয় ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এতে কোনো ধরনের বিড করে না বাংলালিংক। প্রথম ফেইজে ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অফার করা হয়।

১৫ মিনিট বিরতির পর শুরু হয় দ্বিতীয় ফেইজের প্রথম রাউন্ড। এতে ১৮০০ মেগাহার্টজের ব্যান্ডের জন্য বিডে অংশ নেয় বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন। এই রাউন্ডে ১৮ মেগাহার্টজের স্পেকট্রাম অফার করা হয়। প্রতি মেগাহার্টজের জন্য ধরা হয় ৩১ মিলিয়ন ডলার। এতে প্রথমে বিড করে বাংলালিংক এবং পরে গ্রামীণফোন। পরবর্তী রাউন্ডে ৩২ মিলিয়ন ডলারের জন্য কেউ বিড না করায় বাংলালিংক প্রথম রাউন্ডে বিগ উইনার হিসেবে নির্বাচিত হয়।

ফলে এই ফেইজে প্রথম ব্লক নিয়ে নেয় বাংলালিংক। এতে বাংলালিংক ৫.৬ মেগাহার্টজ নেয় এবং গ্রামীণফোন নেয় ৫ মেগাহার্টজ। এতে বাংলালিংককে দিতে হবে ১৭০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রামীণফোনকে দিতে হবে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার।

পররর্তী ফেইজে ২৭ মিলিয়ন ডলারে ৫ মেগাহার্টজ কেনে বাংলালিংক। এতে ছিল ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড। তবে ৯০০ মেগাহার্টজের জন্য নিলামে কেউ নেই।

তরঙ্গ নিলামে বাংলালিংক ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের জন্য আবেদন করে গ্রামীণফোন। তবে ৯০০ মেগাহার্টজের জন্য কেউ আবেদন করেনি। যার মূল্য ১৩৫ মার্কিন ডলার। 

পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পেকট্রাম থাকার কারণে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি রবি আজিয়াটা লিমিটেড।

এ ছাড়াও অর্থাভাবে অংশ নিতে পারেনি সিটিসেল। বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় এবং অর্থ সংকটের কারণে ফোরজি অংশ নিতে পারেনি প্রায় ১৬ মাস ধরে বন্ধ থাকা সিটিসেল। এর আগে ২০১৩ সালেও আর্থিক সচ্ছলতার কারণে থ্রিজি নিলামে অংশ নিতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠানটি। ফোরজির লাইসেন্স পেতে সিটিসেলের প্রয়োজন ছিল সাড়ে ১১ কোটি টাকা। তবে অর্থের সংকুলন করতে না পারায় ফোরজি নিলামে অংশ নিতে পারেনি সিটিসেল।

এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। জানা গেছে, ফোরজি লাইসেন্স পাওয়ার দিন থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে সব জেলা শহরে মোবাইল অপারেটরদের ফোরজি সেবা দিতে হবে। এ ছাড়া ফোরজি লাইসেন্স পাওয়ার দিন থেকে ৯ মাসের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে, ১৮ মাসের মধ্যে ৩০ শতাংশ জেলা শহরে এবং ৩৬ মাসের মধ্যে সব জেলা শহরে ফোরজি সেবা প্রদান করতে হবে।

 

প্রিয় সংবাদ/ফারজানা/আজাদ চৌধুরী