মঙ্গলবার বনানীতে সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মুরার। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য ‘দায়িত্বশীল নেতৃত্বের’ আহ্বান আইসিআরসির

পিটার মুরার বলেন, ‘আজ সর্বজনস্বীকৃত যে, এখানে একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’

ইতি আফরোজ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:২৩ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৬
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:২৩ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৬


মঙ্গলবার বনানীতে সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মুরার। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং অধিকারসহ তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে সহায়তার জন্য ‘দায়িত্বশীল নেতৃত্বের’ ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মুরার।

৩ জুলাই, মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন মুরার। সে সময় আইসিআরসি বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রধান ইখতিয়ার আসলানোভও উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠককালে দেশটির কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাব দেখেছেন উল্লেখ করে পিটার মুরার বলেন, ‘আজ সর্বজনস্বীকৃত যে, এখানে একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মুরার বলেন, ‘তারা মিয়ানমারে সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সম্পৃক্ততার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশের এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় আইসিআরসি যথাযথ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

‘প্রত্যাবাসনের শর্তগুলো শুধু মানবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নয়, চলাফেরার স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, রাখাইনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাজারে প্রবেশাধিকারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্যও প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে তাদের দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস ফিরে আসা’, যোগ করেন মুরার।

বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান করার জন্য দুদেশের পদক্ষেপের কোনো ঘাটতি নেই। উভয় দেশের সরকারই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি তাদের প্রচেষ্টায় মুগ্ধ।’

‘তারা কফি আনান কমিশনের চমৎকার সুপারিশ দেখেছেন এবং সমর্থন করেন। মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের দুঃখ-কষ্ট কমানোর জন্য যথাসাধ্য করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সকল আলোচনা ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অবস্থার খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে’, যোগ করেন আইসিআরসির প্রেসিডেন্ট।

পিটার মুরার বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবে টেকসই সমাধানের জন্য মানবাধিকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষের জরুরি অগ্রগতির ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক।’ 

‘আমাদের সকলকে একযোগে সর্বোত্তম প্রচেষ্টা চালিয়ে এই সংকটময় পরিস্থিতি দূর করতে হবে এবং এর পেছনের কারণগুলো সমাধান করতে হবে। আইসিআরসি তাদের জন্য কাজ করতে খুবই আগ্রহী’, বলেন মুরার। 

মানবিক সহায়তাই কেবল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না উল্লেখ করে আইসিআরসির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক সমাধান, পরিবেশগতভাবে টেকসই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের প্রয়োজন।’

এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সরবরাহ দ্বিগুণ করেছে আইসিআরসি। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত