(প্রিয়.কম) পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। শুধু তাই নয় শ্রেণীকক্ষের অভাবে স্কুলের বারান্দায় শিক্ষা গ্রহণ করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।

স্কুলটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এলজিইডির অর্থায়নে ১৯৯৯-২০০০ সালে ভবনটি পুনঃনির্মাণ হয়। ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া স্কুলটিতে ১২৭ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে শিক্ষা গ্রহণ করছে। শ্রেণীকক্ষের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি টানা বর্ষণের ফলে জরাজীর্ণ ভবনের ছাদে পানি জমে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। স্কুলের বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই পানি জমে আছে। ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। যে কোনো মুহূর্তে ছাদ ধসে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্কুল ভবনটি বেশ পুরানো, শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে। স্কুলের সীমানায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে, ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়েছে, ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। ছবি: প্রিয়.কম

দুটি কক্ষে ও একটি সিঁড়ি ঘরে গাদাগাদি করে কোনোমতে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া স্কুলের পাশে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি গরুর খামার করেছেন। গোবরের গন্ধে শিশু শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবকিছু মিলিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হয় ছেলে-মেয়েদের। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. কামরুন্নাহার বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস করানো হয়। গরুর খামারের কারণে সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়। এ ব্যাপারে গরুর খামারের মালিককে বলেও কোনো লাভ হয়নি। বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার স্কুল বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ শুরু করতে পারেননি, তবে খুব শিগগিরই তা শুরু হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম জানান, ‘সবগুলো বিষয় সমাধান যোগ্য। উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে যারা আছেন তারা উদ্যোগ নিলেই সমাধান সম্ভব’। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন