(প্রিয়.কম) পাবনার চাটমোহরে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর মুখে ও চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ সোঁতি বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। পানি প্রবাহের মুখে সোঁতি বাঁধের কারণে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও এলাকাবাসীদের ফসলি জমি ভেঙ্গে পানিতে বিলীন হচ্ছে। এ ছাড়া চাষাবাদে সেচের পানি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মৎস্য সম্পদ বিভাগের গাফিলতিতে নির্বিচারে মা মাছ থেকে শুরু করে সব রকমের মৎস নিধন শুরু করেছে কথিত মৎস্য শিকারী ও প্রভাবশালীরা। সোঁতি জালের কারণে পোনা মাছ থেকে শুরু করে কোন মাছই রেহাই পাচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চলনবিল অঞ্চলের রসুন, পেয়াজ ও সরিষার আবাদ কার্যক্রমের।

সম্প্রতি উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের করকোলা গ্রামের ধরমগাছা এলাকায় গুমানী নদীতে স্থাপিত সোঁতি বাঁধ এলাকাবাসীরা একত্রিত হয়ে কেটে দেওয়ার সময় সোঁতি বাঁধ স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় উভয়পক্ষের পাঁচ জন আহত হয় এবং এলাকাবাসী অবৈধ সোঁতি বাঁধ কেটে দেয়।

পাবনার চাটমোহরে স্থাপিত অবৈধ সোঁতি বাঁধ।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার করকোলা গ্রামের ধরমগাছা এলাকায় গুমানী নদীতে স্থাপিত অবৈধ সোঁতি বাঁধ। ছবি: প্রিয়.কম

পরে সোঁতি বাঁধ স্থাপন বন্ধে গত ৩০ আগস্ট বুধবার উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবহিত করার জন্য চিঠি দেন ইউএনও বেগম শেহেলী লায়লা। তবে পুনরায় নদ-নদী ও বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ সোঁতি বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলার কাটা নদী, ছাওয়ালদহ, খলিসাগাড়ী বিল, গুমানী, করতোয়া, আত্রাই নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁশ ও চাটাই দিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে সোঁতি বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সোঁতি বাঁধ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

শুধু তাই নয় উপজেলা মৎস বিভাগ পর্দার আড়ালে থেকে এই সব অবৈধ সোঁতি বাঁধ স্থাপনকারীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জলাশয় মুক্ত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম শেহেলী লায়লা বলেন, ‘সোঁতি বাঁধ স্থাপন পুরোপুরি অবৈধ। আমি মৎস কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছিলাম। তারপরেও যখন বন্ধ হচ্ছে না; তাই খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সোঁতি বাঁধ উচ্ছেদ করা হবে।’

প্রিয় সংবাদ/শিরিন