সিটি ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে প্রিয় মুক্তিপিনের কর্মসূচি। ছবি: প্রিয়.কম

সিটি ইউনিভার্সিটিতে হয়ে গেল প্রিয় মুক্তিপিনের কর্মসূচি

মুক্তিযোদ্ধা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মৃত্যুর পর শহীদ বালকটির কোমড়ে বাঁধা একটি কাগজের পোটলায় এ দেশের মাটি ছিল এবং পোটলাটি যে কাগজ দিয়ে বাঁধা ছিল তাতে লিখা ছিল- তাকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কবর দেওয়া যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দাফনের সময় পোটলায় বাঁধা মাটি যেন তার বুকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

নাজমুল হাসান শান্ত
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৩৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৩৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২


সিটি ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে প্রিয় মুক্তিপিনের কর্মসূচি। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পরে ১৬ ডিসেম্বর বাংলার আকাশে উদিত হয় বিজয়ের লাল সূর্য। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও ঘটনাসমূহ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের তথা তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রিয়.কম দেশব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তারই অংশ বিশেষ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর শনিবার সিটি ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত হয় মুক্তিপিন কর্মসূচি।

প্রিয়.কম ও সিটি ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন, সিটি ইউনিভার্সিটি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার মুক্তিযোদ্ধা শাখাওয়াত হোসেন এবং কম্পিউটার বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক শাফায়েত হোসেন।

দুপুর ১২টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। সেসময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক শাফায়েত হোসেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তিপিন কার্যক্রমটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্মতি ব্যক্ত করেন। তা ছাড়া মুক্তিপিন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে তিনি বিস্তর আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের হাতে প্রিয় মুক্তিপিনের ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন জাকারিয়া স্বপন। ছবি: প্রিয়.কম

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের হাতে প্রিয় মুক্তিপিনের ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন জাকারিয়া স্বপন। ছবি: প্রিয়.কম

এর পর মুক্তিপিন গবেষক দলের প্রধান ফারজানা ইয়াসমিন কীভাবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্র মুক্তিপিনে তথ্য ও ছবি সংযুক্ত করতে হয়, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি দিক-নিদের্শনা প্রদান করেন। সেই সঙ্গে মুক্তিপিন নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

তার কিছুক্ষণ পরে মঞ্চে উঠেন প্রিয়.কম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন। তিনি মঞ্চে উঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিপিনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ ডাটা সায়েন্স (তথ্য বিজ্ঞান) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে জাকারিয়া স্বপন ব্যস্ত কার্যক্রম থেকে একটু বেড়িয়ে এসে অনুষ্ঠানটিতে ভিন্নতা নিয়ে আসেন কুইজের মাধ্যমে। কিছুটা সময় মজা আর ভাল লাগা তৈরি করতে জাকারিয়া স্বপন শিক্ষার্থীদেরকে কুইজের মাধ্যমে ১০টি প্রশ্ন করেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। এতে তাৎক্ষণিক ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির ১০ জন শিক্ষার্থী প্রত্যেকে জিতে নেন আইপে মানি। সেসময় তিনি মুক্তিপিনের ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন। ছবি: প্রিয়.কম

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন। ছবি: প্রিয়.কম

এরপরই মঞ্চে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুক্তিযোদ্ধা শাখাওয়াত হোসেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করলে মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করে। এক পর্যায়ে অশ্রুসজল চোখে আর কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৮ম শ্রেণির একজন শহীদ বালকের কথা। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মিলিশিয়াদের (পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী) হাতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর শহীদ বালকটির কোমড়ে বাঁধা একটি কাগজের পোটলায় এ দেশের মাটি ছিল এবং পোটলাটি যে কাগজ দিয়ে বাঁধা ছিল তাতে লিখা ছিল- তাকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কবর দেওয়া যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দাফনের সময় পোটলায় বাঁধা মাটি যেন তার বুকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা শাখাওয়াত হোসেন মুক্তিপিন কার্যক্রমটির সাফল্য কামনা করে তার বক্তব্য শেষ করেন।

এরপরই সিটি ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান দেশ-প্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশব্যাপী চলমান এই মুক্তিপিন কার্যক্রম নিয়ে যে কোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটির শেষে কম্পিউটার বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক শাফায়েত হোসেন প্রিয়.কম-এর মুক্তিপিন কার্যক্রমটির ভূয়সী প্রশংসা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

পুরো কর্মসূচিতে সিটি ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের এই উদ্যোগ প্রিয় মুক্তিপিন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।

দেশব্যাপী চলমান এই কার্যক্রমটি শেষ হবে আগামী ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি। সেরা পিনদাতাদের ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে শেষ হবে মুক্তিপিন কার্যক্রম। আপনিও অংশ নিন আর গর্বিত হয়ে উঠুন কালজয়ী ইতিহাসের।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত