ছাত্রদল নেতা মাজেদুল কবীর রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ঘটনার পরপরই প্রথমে মাজেদুল কবীর রাসেলকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মশিউর রহমান রাহাত
কন্ট্রিবিউটর, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০১৮, ২০:৩০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১১:০০
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০১৮, ২০:৩০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১১:০০


ছাত্রদল নেতা মাজেদুল কবীর রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) পিরোজপুরের নাজিরপুরে চাঁদা না দেওয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজেদুল কবীর রাসেলকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। 

৭ মে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী মধ্যরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতার নাম আরিফুর রহমান সবুজ। তিনি নাজিরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর ছাত্রদল নেতা মাজেদুল কবীর রাসেল উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী এবং শ্রীরামকাঠী গ্রামের শাহজাহান কবীরের ছেলে।

ঘটনার পরপরই প্রথমে মাজেদুল কবীর রাসেলকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত ছাত্রদল নেতা প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘গত রবিবার বিকেলে আমি শ্রীরামকাঠী বন্দরে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিয়াদ ইলেকট্রনিক্সে বসেছিলাম। সে সময় ওই বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সবুজের কয়েকজন লোক আমার প্রতিষ্ঠানে আসে এবং সবুজ ভাই তাদের পাঠিয়েছে বলে আমার নিকট চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা চলে যায়।

সোমবার রাতে আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী মধ্য রাস্তা মতি মোল্লার মিলের সামনে পৌঁছালে আরিফুর রহমান সবুজের নেতৃত্বে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি হাওলাদার, ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব ও রামসহ ৮-১০ জন চার দিকে থেকে আমাকে ঘিরে ধরে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।’

প্রত্যক্ষদর্শী জাকির মোল্লা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলের পাশেই কবির চায়ের দোকানে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে আমিসহ কয়েকজন এগিয়ে যাই। সে সময় সবুজ, বিপ্লব, জনি ও রামসহ কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখেছি। রাস্তার উপর রাসেলকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।’

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শোভন রায় চৌধুরী প্রিয়.কমকে বলেনরাসেলের ডান হাতে ও বাম পায়ে হাড় ভাঙা, জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে । 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুর রহমান সবুজের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাসেলের সাথে আমার কোনো শক্রতা নাই। কেন আমি তাকে মারতে যাব। এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেন তিনি আমার নাম বলছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমীর হোসেন মুঠোফোনে প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘রাতের আধাঁরে এভাবে আক্রমণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডারা ছাত্রদল নেতা রাসেলকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ সংক্রান্তে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/শান্ত