ছবিঃ সংগৃহীত

ড. ইউনূসের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত বন্ধে সরকারকে হুমকি দিয়েছিল হিলারি

এমনকি দুর্নীতির অভিযোগ বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেছিলেন তিনি।

এম. রেজাউল করিম
প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০১৭, ১২:২৫ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০০
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০১৭, ১২:২৫ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০০


ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেকে বাঁচাতে ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশের ওপর অনৈতিক অধিকার চর্চা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগ বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেছিলেন তিনি। 

গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি কলারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতীয় দৈনিক সমকাল।  

রিচার্ড পোলোকের পোস্ট করা ডেইলি কলার’র ওই বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্লিনটন পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনূসকে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশকে দমনের চেষ্টা করেছিলেন হিলারি। ইউনূসের হয়ে হিলারি বারবার এবং সরাসরি বাংলাদেশকে হুমকি দেন। এমনকি পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার ঋণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে দেন। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিলারি ক্লিনটনের ঔদ্ধত্যমূলক চাপ প্রয়োগ-কৌশল ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতার পক্ষে বিশ্বব্যাংককে ব্যবহার নিয়ে মার্কিন সিনেট কমিটি তদন্ত করছে। এই তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। 

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের অনুরোধে বাংলাদেশের সরকার দুটি নথি জমা দিয়েছে। সেই নথি থেকেই হিলারির এই অনৈতিক চর্চার কথা জানা গেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, হিলারি তার ফাউন্ডেশনের দাতা ও কোটিপতি বন্ধুকে সাহায্য করতে 'হার্ড-বল' কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। যা বিরক্তির ছায়া ফেলেছিল।

নথি অনুযায়ী আরও জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক অব্যবস্থাপনার জন্য অভিযুক্ত ড. ইউনূসকে বাঁচাতে হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, দূতাবাস এবং বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ড. ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলার এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিনি ৩ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ দান করেছিলেন। 

২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ড. ইউনূস একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এর মধ্যেই ডেনমার্কে তৈরি একটি ডকুমেন্টারিতে উঠে আসে কীভাবে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, হিলারি ও তার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রতিষ্ঠিত ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অন্যতম দাতা এবং ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী বাংলাদেশের এই অর্থনীতিবিদ। 

প্রিয় সংবাদ/মিজান