ছবি সংগৃহীত

কোচিং সেন্টার ঘরে ঘরে - দৈনিক সমকাল

। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এ জন্য প্রতি মাসে দিতে হয় ১৫০০ টাকা। এ হিসাব অনুসারে, প্রতি মাসে ফখরুদ্দীন প্রায় ১২ লাখ টাকার কোচিং ব্যবসা করেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৭, ০৭:৩৪ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৭, ০৭:৩৪ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬


ছবি সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত 

(প্রিয়.কম) রাজধানী জুড়ে চলছে বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা 'কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা' না মেনে কোচিং ব্যবসার মাধ্যমে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার রসায়নের শিক্ষক মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।

বুধবার ২২ মার্চ দৈনিক সমকালে  প্রকাশিত 'কোচিং সেন্টার ঘরে ঘরে' শিরোনামের একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নেয়া হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদের পাশে একটি টিনশেড বাড়ি। ৪৭৬ হোল্ডিং নম্বরের এ বাড়িতে সকাল ৮টা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা শুরু হয়। সারাদিন ব্যাচে ব্যাচে তাদের কোচিং করান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার রসায়নের শিক্ষক মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন।

পাশের এক দোকানি জানান, প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান তিনি। শুধু ফখরুদ্দীনই নন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় সাড়ে তিনশ' শিক্ষক শাহজাহানপুর ও বনশ্রী এলাকায় এমন কোচিং বাণিজ্য সেন্টার গড়ে তুলেছেন। প্রতি মাসে এভাবে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা আয় করছেন তারা। রাজধানীর অন্যান্য বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও এভাবে কোচিং সেন্টার খুলে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। নিরুপায় অভিভাবকরাও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেখানে পাঠাচ্ছেন সন্তানদের। 

আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, প্রতিটি ব্যাচকে সপ্তাহে পাঁচ দিন করে পড়ান ফখরুদ্দীন স্যার। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এ জন্য প্রতি মাসে দিতে হয় ১৫০০ টাকা। এ হিসাব অনুসারে, প্রতি মাসে ফখরুদ্দীন প্রায় ১২ লাখ টাকার কোচিং ব্যবসা করেন। 

মোহাম্মদ ফখরুদ্দীনের সেন্টারের ৮০০ শিক্ষার্থীর ৭০০ জনই তার নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এ জন্য তিনি তার প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ‘ভাই, পরে কথা বলি।’

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষকই তার কাছ থেকে কাউকে পড়ানোর অনুমতি নেননি। তিনিও কাউকে কোনো অনুমতি দেননি। 

উল্লেখ্য, রাজধানীতে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাধ্যমিক স্তরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটির মতিঝিল মূল শাখাসহ বনশ্রী ও মুগদা শাখার তিনটি ক্যাম্পাসে প্রায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। যদিও তাদের পড়াশোনা করতে হয় মূলত শিক্ষকদের সাইনবোর্ডবিহীন কোচিং সেন্টারগুলোতে।

প্রিয় সংবাদ/ইতি/শান্ত