(প্রিয়.কম) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষক মুবাশ্বার হাসান সিজারকে যারা গুম করেছে তাদের কারও বিচার চান না তার সাবেক স্ত্রী। কেবল তাদের সন্তান ও সিজারের বাবার কাছে সে ফিরে আসুক, এটাই তার চাওয়া। প্রয়োজনে সিজার চাকরি ছেড়ে দিবে, লেখালেখি দিবে বলেও জানান তিনি।

সিজারের বোন তামান্না তাসমিন এসব জানিয়েছেন।

১৪ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ভাইয়ের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। ওদের বিচ্ছেদের পরেও যোগাযোগ ছিল। সিজারের সাবেক স্ত্রী একটা লেখা দিয়েছেন, যেটা তামান্না তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন।

গত ৭ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মুবাশ্বার। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তামান্না তাসমিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আজ ৭ম দিন। গোটা একটা সপ্তাহ পার হয়ে গেল! কোনো খবর নাই। আমার আর লিখতে ভালো লাগে না। মনে হয় কি হবে লিখে! টায়ার্ড লাগে সবকিছুই। সবকিছুই বৃথা মনে হয়।

ভাইয়ার প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে আমার সবসময়ই ভালো সম্পর্ক ছিল। ওদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পরেও আমাদের প্রায়ই কথা হতো। আজকের লেখাটা ওর। ওর অনুরোধে সবার জন্য দিলাম -

‘৭ই নভেম্বরের পর থেকে মোবাশ্বারের জন্যে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, মানববন্ধন হচ্ছে। ওর বন্ধুরা ওকে ফেরত চায়, ওকে যারা গুম করেছে তাদের বিচার চায়। আমি শাস্তি বা বিচার চাই না। আমি শুধু চাই আমার ছোট্ট মেয়েটার বাবা মেয়ের কাছে ফিরে আসুক। ও শুধু একবার ফিরে আসুক, আমি কথা দিচ্ছি ও আর জীবনেও কোনো কিছু লিখবে না, ওর ফেসবুক প্রোফাইল থাকবে না, ওর ব্লগ থাকবে না। প্লিজ বিশ্বাস করেন।

আমাদের একটা মেয়ে আছে। ডিভোর্সের পর আমাদের কখনও দেখা বা কথা হয় নাই। মেয়ের পিতামাতা হিসেবে আমরা সিক্রোনাইজড ছিলাম। মেয়েটাকে আমি বলেছি তার বাবা বাইরে গেছে ৭ তারিখে পড়াশোনা করতে। ওর বাবা যেহেতু প্রায়ই বাইরে যায় তাই সে বেশি প্রশ্ন করেনি, কিন্তু প্রচণ্ড অভিমান করেছে। কারণ এমন কখনও হয়নি যে ওর বাবা ওকে না জানিয়ে কোথাও গেছে। ও খুব অবাক হয়ে বলেছে, ‘কই, বাবা তো আমাকে বলে গেল না’।

আমার মেয়ে জানে যে তার বাবা শুক্রবার তাকে খেলনা কিনতে নিয়ে যাবে, কিন্তু বাবা তাকে না জানিয়ে বিদেশ যাবে এটা সে কিছুতেই মানতে পারছে না। ফুফুর সাথেও তার বেশ ভালো খাতির। বাবার ওপর অভিমান করে সে ফুফুর সাথেও কথা বলে না এখন।

মেয়েটা জানে তার বাবা বাইরে থেকে খেলনা নিয়ে আসবে অনেক। নভেম্বরেই তার জন্মদিন। প্রতি বছর তার বাবা তার জন্যে একটা বার্থডে পার্টি করে, আর আমি একটা করি। এবারও সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘আচ্ছা এবারও তো আমার ২টা পার্টি হবে তাই না?’ বাবার সাথে খেলতে যাওয়া, মুভি দেখতে যাওয়ার খুব পাগল সে। আপনারা ইমোশন কতটুকু বোঝেন আমি জানি না, কিন্তু আমার মেয়ে বোঝে! এই মেয়েটাকে এভাবে মিথ্যা বলে আর কতদিন বুঝ দিয়ে রাখব আমি?

আমার মেয়ের পছন্দের খেলনা My Little Pony। দুনিয়ার আর কোনো খেলনা ওকে টানে না। মোবাশ্বার যখনই বাইরে গেছে, খুঁজে খুঁজে ব্যাগ ভর্তি করে এই খেলনা নিয়ে এসেছে। আমার গোটা রুম এই খেলনা দিয়ে ভর্তি। আপনাদেরও নিশ্চয়ই বাচ্চা আছে, আপনাদের বাচ্চার কোন খেলনা পছন্দ? আপনারা দূরে গেলে সেই বাচ্চার কি অবস্থা হয়?

কার কি যায় আসে আমি জানি না, কিন্তু মোবাশ্বারের বাবার গোটা দুনিয়াজুড়ে ছিল শুধু উনার ছেলে। উনাকে আমি যতটুকু চিনি, ছেলের অভাবে বেশিদিন সুস্থির থাকতে পারবেন না। ওর মেয়ে আর বাবার দিকে তাকিয়ে হলেও ওকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন প্লিজ। দরকার হলে ও সারাজীবন বাসায় বসে থাকবে ওর বাবার কাছে। দরকার হলে ও চাকরি করবে না। তবুও ওর বাবা আর মেয়ের কাছে ওকে ফেরত দিন একটাবার।’

 

প্রিয় সংবাদ/রিমন