(প্রিয়.কম) গেল আসরের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরও হার দিয়ে শুরু করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চতুর্থ আসরের প্রথম জয় পাওয়ার জন্য ষষ্ঠ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল কুমিল্লাকে। কিন্তু পঞ্চম আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে কুমিল্লা। মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আট উইকেটের জয় পেয়েছে দলটি।

এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের সংগ্রহ পায় চিটাগং। জবাবে ১৬ বল ও আট উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিটন কুমার দাস ও জস বাটলারের উদ্বোধনী জুটিতে ৪৩ রানের সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। লিটন দাসকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শুভাশিস রায়। আউট হওয়ার আগে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। ১৪ বলে তিন চার এবং এক ছয়ে ২৩ রানের ইনিংস খেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

লিটন দাস ফিরলেও ব্যাট হাতে রানের চাকা সচল রাখেন বাটলার। তাকে সঙ্গ দেন ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দু'জন মিলে যোগ করেন ৫৭ রান। এবারও জুটি ভাঙেন শুভাশিস। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকতেই ডানহাতি এই পেসারের বলে লুক রনচির গ্লাভসে ধরা পড়েন বাটলার। ৪২ বলে তিন চার ও দুই ছয়ে ৪৮ রান আসে বাটলারের ব্যাট থেকে।

এরপর আর কোনও উইকেট হারাতে হয়নি কুমিল্লাকে। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ইমরুল কায়েস ও মারলন স্যামুয়েলস। ইমরুল ৩৩ ও স্যামুয়েলস ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ১৮ বলে চারটি চার এবং ছয়ে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন স্যামুয়েলস। এদিন শুভাশিস ছাড়া উকেটের দেখা পাননি চিটাগংয়ের কোনও বোলার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকার ও লুক রনচির ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পায় চিটাগং। পাঁচ ওভারেই স্কোরকার্ডে ৫০ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লে শেষ হতে দুই বল বাকি থাকতেই ৬৩ রানের সংগ্রহ পেয়ে যায় চিটাগং। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে রনচিকে ফেরান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। আউট হওয়ার আগে ২১ বলে চারটি চার ও তিন ছয়ে ৪০ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান রনচি।

উইকেট হারালেও থামেনি রান তোলার গতি। দ্বিতীয় উইকেটে দিলশান মুনাবীরার সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। দলীয় ১০১ রানে মুনাবীরাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ডোয়াইন ব্রাভো। পাঁচ রানের ব্যবধানেই ফিরে যান সৌম্য। সৌম্য-মুনাবীরা ফিরে গেলে রান তোলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি এনামুল হক বিজয়-মিসবাহ উল হকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় কমে যায় রান তোলার গতি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি।

চার ওভারে ২৪ রান খরচ করে তিন উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্রাভো নেন দুই উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন আল আমিন ও নবী।