(তাজুল ইসলাম পলাশ, কুতুপালং, উখিয়া থেকে) কক্সবাজারের উখিয়া এখন রোহিঙ্গা নগরী বলা যায়। সেখানে প্রতিদিন আসছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কোথায় থাকবে, কোথায় খাবে, কীভাবে চলবে কিছুই জানে না তারা। ক্ষুধার্তরা, রাস্তার পাশে এসেই দাড়িয়ে থাকে। কোনো পিকআপ, মাইক্রোবাাস, প্রাইভেটকার, বাস কিংবা ট্রাক দেখলেই ছুটে যায় তারা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে ত্রাণ আসছে প্রতিদিন। যারা বিত্তশালী তারা কোন ব্যানার ব্যবহার না করেই নিজের মতো করে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখে গেছে। এসব ত্রাণ বিতরণে কোন নিয়মকানুন না থাকাতে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

১১ সেপ্টেম্বর সোমবার উখিয়ার কতুপালং এলাকায় নতুন ক্যাম্প গিয়ে এ চিত্র চোখে পড়ে।

সেখানে ছোট সড়কের আশপাশে গাধাগাদি করে তীরপাল দিয়ে টং তৈরি করেছে রোহিঙ্গারা। কোন গাড়ি দেখলে তারা জড়ো হয়। ত্রাণ বিতরণকারী গাড়ি দেখলে ঘিরে ফেলে ওই গাড়িটিকে। ত্রাণ বিতরণে কোন নিয়ম না মানায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।

rohingya-coxsbazar-ukhia

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের কুতুপালং বাজারের এলাকার নতুন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ছবি: সংগৃহীত

কুতুপালং বাজারে ওয়েল হোল্ডিংয়ে লিমিটেড ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওসমান গনি প্রিয়.কম-কে বলেন, আমরা এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি। প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গাদের আমরা খাবার নিয়ে এসেছি। কিন্তু কোন নিয়মকানুন না থাকাতে আমরা নিজেরাই সমস্যায় পড়ে গেছি। গাড়ি ঢুকানোর পর সেই গাড়ি আর বের করতে পারছি না। এখানে একের পর এক ত্রাণের গাড়ি আসতেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞল থেকে ত্রাণ আসতে শুরু করায় উখিয়া বাজার হতে কুতুপালং টিভি টাওয়ার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব যানজট নিরসনে কাজ করছে প্রশাসন। দায়িত্বে থাকা উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল প্রিয়.কম-কে জানান, সকাল থেকে ত্রাণের গাড়ি আসতে শুরু করে। এমনিতে সড়কটি ছোট। সেখানে ত্রাণের গাড়ি ও অব্যাহত রোহিঙ্গাদের কারণে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

এদিকে আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। কোন রোহিঙ্গাকে বাইরে অবস্থান না নিয়ে নির্ধারিত ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল