(প্রিয়.কম) পুরাতন আইনে বর্ণিত আত্মীয়তার পরিধি বাড়িয়ে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চিকিৎসায় অঙ্গদান সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

১৭ জুলাই সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন- ২০১৭’ এর অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন আইনে চোখ ও অস্থিমজ্জাকে বাইরে রেখে অন্যান্য অঙ্গের ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যতীত দান ও সংযোজনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন আইনে নিকটাত্মীয়ের সংজ্ঞায় পিতা-মাতা, ভাইবোন, পুত্র-কন্যা, স্বামী-স্ত্রী, রক্তের সম্পর্কের চাচা-চাচি, মামা-মামি, নাতি-নাতনি, মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ভাইবোনকে বোঝানো হয়েছে।

আগের আইনে নিকটাত্মীয় হিসেবে পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, ভাই, বোন ও ও স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে রক্তসম্পর্কিত হিসেবে আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারতেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অঙ্গ সংযোজনের অনুমতি নিতে হবে।

তিনি জানান, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো হাসপাতালে অঙ্গ সংযোজন করা যাবে। তবে যেসব সরকারি হাসপাতালে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে সেসব হাসপাতালের অনুমোদন নেওয়ার দরকার নেই।

কিডনি, যকৃৎ, টিস্যু, চক্ষু, অন্ত্রসহ সব ধরনের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে দুই বছরের কম আর ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ অঙ্গ সংযোজন করতে পারবেন না নতুন আইনের বিধান রয়েছে।

নিকটাত্মীয়দের ব্রেইন ডেথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অঙ্গ সংগ্রহ করা যাবে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম। তিনি জানান, স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা আইনে নির্দিষ্ট আত্মীয়দের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন।

তবে চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজন ও প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন হবে না। বেঁচে থাকার সময় কেউ স্বেচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে গেলে তা অন্যকে দেওয়া যাবে। ‘ব্রেইন ডেথ ঘোষণার পর কোনো আইনানুগ উত্তরাধিকারী কোনো ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্ত করার জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দিলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া যাবে’, বলেন আশরাফ শামীম।

তবে তিনি জানান, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত রোগির কোনো বৈধ উত্তরাধিকার না থাকলে ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্বপালনকারী অঙ্গদানের অনুমতি দিতে পারবেন। এ ছাড়া ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্বপালনকারী ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিতে পারবেন। 

এ সব প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আর সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সূত্রে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে নতুন এই আইনটি করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব।

এই আইন অমান্যে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সনদ বাতিলসহ অন্যান্য শাস্তি কার্যকর হবে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত