পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবনে’ প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

‘নির্বাচনের বছরে ভারতের সহযোগিতা চাই’

‘আওয়ামী-লীগ ক্ষমতা হারালে পশ্চিমে আর পূবে— দু’দিকেই পাকিস্তান নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে।’

জানিবুল হক হিরা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৮, ১৭:৪৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:১৬
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৮, ১৭:৪৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:১৬


পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবনে’ প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ‘নির্বাচনী বছরে ভারতের সহযোগিতা’ চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া সুবিধাগুলো উল্লেখ করে তিনি এই সহযোগিতা কামনা করেন বলে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা দাবি করেছে। 

২৬ মে, শনিবার আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বৈঠকে হাসিনা জানিয়েছেন—তার সরকার (আওয়ামী-লীগ সরকার) উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতর সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মোদির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শেখ হাসিনার বার্তা— মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সরাতে, বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে। আওয়ামী-লীগ ক্ষমতা হারালে পশ্চিমে আর পূবে— দু’দিকেই পাকিস্তান নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে। তাই ভারতের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারই যাতে ক্ষমতায় ফেরে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।’

মোদিকে শেখ হাসিনা বলেছেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল পাকিস্তানি শোষণে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড় করানো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমেছেন তিনি। মুক্তিযু্দ্ধের মতো এই কাজেও ভারতকে পাশে চান।

বৈঠকে শেখ হাসিনার এমন প্রত্যাশার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। তবে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের পরে বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো খাতে ৮০০ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে দিল্লি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট করা হবে। মহাকাশ প্রযুক্তিতেও সাহায্য করতে চায় দিল্লি।

২৫ মে, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে যান। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। পরে বিশেষ হেলিকপ্টারে চলে যান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বীরভূমের শান্তিনিকেতনে। সেখানে তিনি প্রথমে যোগ দেন বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্টানে।

পরে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ভবন।

বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ২৫ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই ভবন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার আরও ১০ কোটি রুপি দিয়েছে এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

শান্তিনিকেতন থেকে শুক্রবার বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে যান কলকাতায়। বিকেলেই তিনি কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে যান। ঘুরে দেখেন ঠাকুরবাড়ি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফরহাদ হাকিম, পর্যটনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...