(প্রিয়.কম) ঢাকায় চাকরী করেন এরকম অনেকেই আছেন যারা থাকেন উত্তরা, টঙ্গী কিংবা জয়দেবপুরে। চাকরী হয়ত করেন মতিঝিল কিংবা বনানী, দিনশেষে আবার তারা ফিরে যান ঢাকা থেকে বাড়ির পথে। কিন্তু ঢাকার রাস্তার জ্যাম যে কি সাংঘাতিক, তা ঢাকায় যারা চলাফেরা করেন, তারাই বুঝে থাকেন। আর বিশেষ করে যারা ঢাকা থেকে বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন জয়দেবপুর কিংবা টঙ্গীর দিকে, তারা নিয়মিতই হায় হায় করেন। আবার মতিঝিল থেকে উত্তরা আসতেও সময় লাগে অনেকটাই বেশি।

অনেকেই হয়ত জানেন না, ঢাকা থেকে বিমানবন্দর হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন আছে এবং এই ট্রেনে করে আপনি অল্প সময়েই পৌঁছে যেতে পারেন ঢাকা থেকে জয়দেবপুর কিংবা টঙ্গী।

সাধারণ ট্রেন বা দ্বিতীয় মেইল এ বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কমলাপুর অথবা কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত টিকেটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা। বিশেষ ট্রেন বা আন্তঃনগর এ বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কমলাপুর অথবা কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত টিকেটের মূল্য ৪৫ টাকা। 

ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করার ক্ষেত্রে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট করাটা সত্যিই অনেক কষ্টের। সেজন্য একটা সহজ অর্থ-সাশ্রয়ী পথও আছে: মাসিক টিকেট। এই টিকেটের সুবিধা হলও, মাত্র একটা টিকেট দিয়ে আপনি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর-জয়দেবপুর অথবা জয়দেবপুর-বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এক মাসে যতবার ইচ্ছা ততবার ভ্রমণ করতে পারেন। 

মাসিক টিকেট আছে সাধারণ টিকেট (৳৪৬০); চারশত ষাট টাকার টিকেট, এই টিকেট দিয়ে চড়া যাবে যেকোনো সাধারণ অথবা মেইল, আন্তঃনগর ট্রেনে, একমাসে, যতবার ইচ্ছা, কমলাপুর- বিমানবন্দর, জয়দেবপুর ও জয়দেবপুর-বিমানবন্দর-কমলাপুর যাওয়া আসা করতে পারবেন।

আসুন, জেনে নেয়া যাক এই মাসিক টিকিট করার জন্য আপনাকে কী করতে হবে।

মাসিক টিকেট করতে হয় কমলাপুর স্টেশন থেকে। আগে দরখাস্ত করতে হত, এখন দরকার হয় না। সেজন্য আপনার দরকার হবে:

* এক কপি ছবি (পাসপোর্ট ছবি হলে সুবিধা)

* ৪৬০ টাকা (যেখানে ১০টাকা হলও নিবন্ধন ফি, যা শুধু প্রথমবারই দিতে হয়)। 

মাসিক টিকিট আপাতত দেয়া হচ্ছে কমলাপুরের ১৩ নম্বর কাউন্টারে। তবে এটা পরিবর্তন হতে পারে যে কোন সময়েই। কাউন্টারে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে কোনখানে মাসিক টিকিট করা হয়।

মাসিক টিকিট এর মেয়াদ হয় এক মাস। আপনি যেদিন টিকিট করবেন, সেদিন থেকে একমাস। মাসিক টিকেট রিনিউ করাতে কোন ঝামেলা নেই। পুরাতন টিকিট টা জমা দিলেই নতুন টিকিট পাবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত ১০ টাকা দিতে হবেনা।

আশা করা যায় এই তথ্যগুলো আপনাকে সহযোগিতা করবে ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে অল্প সময়ে অফিস থেকে বাড়ি ফিরে যেতে।

সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
ভ্রমণ সম্পর্কিত আরও জানতে চোখ রাখুন আমাদের প্রিয় ট্রাভেলের ফেসবুক পাতায়। 
ভ্রমণ নিয়ে আপনার যেকোনো অভিজ্ঞতা, টিপস কিংবা লেখা পোস্ট করুন আমাদের সাইটে । আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।