চলতি বিনোদন বর্ষে আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন যে দশ ব্যক্তি

সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ, চিত্রনায়ক শাকিব খান, জীবন-পদ্ধতি বদলে ফেলা অনন্ত জলিল, কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজুর রহমান, পপশিল্পী মিলা ইসলাম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মুকুট হারা জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল, নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, নির্মাতা মোস্তফা সরইয়ার ফারুকী এবং অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়- এ ১০ জনের ঘটনাই সর্বাধিক প্রভাব ফেলেছে ২০১৭ সালের বাংলাদেশের বিনোদনবর্ষে।

শিবলী আহমেদ
সহ-সম্পাদক
২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সময় - ১৯:২৯

এ বছর বিনোদন জগতে সর্বাধিক আলোচিত-সমালোচিত ১০ জন ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত।

(প্রিয়.কম) নদীর স্রোতের মতোই প্রবাহমান ঘটনাসমূহ। কোনো কোনোটি মানুষের হৃদয়ে আঁচড় কেটে যায়, মানুষের দৃষ্টি বন্দি হয়ে পড়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ওপর। সেসব ঘটনার পেছনে বিরাজ করেন কোনো না কোনো ব্যক্তি। বিনোদনজগতও এর বাইরে নয়। বিনোদন বর্ষ ২০১৭ সাল জুড়ে ঘটে গিয়েছে অসংখ্য ঘটনাবলী। তন্মধ্যে যে তারকাদের কর্মকাণ্ডে, কিছু কিছু নির্দিষ্ট সময়ে গোটা বাংলার মানুষের দৃষ্টি একটি বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়েছে, তারা হচ্ছেন- সংগীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ, চিত্রনায়ক শাকিব খান, জীবন-পদ্ধতি বদলে ফেলা অনন্ত জলিল, কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজুর রহমান, পপশিল্পী মিলা ইসলাম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মুকুট হারা জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল, নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। এ তারকাদের বাইরেও অনেক তারকাদের নিয়ে সারা বছরই সময়ে-সময়ে টুকিটাকি আলোচনা-সমালোচনা কিংবা প্রশংসা-নিন্দা চলেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে এ ১০ জনের ঘটনাই সর্বাধিক প্রভাব ফেলেছে চলতি বর্ষে।

সংগীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। ছবি: সংগৃহীত।

সংগীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ: ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের মেয়ে রেহান চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাবিব ওয়াহিদের। ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাদের ঘর আলোকিত করে আসে একমাত্র সন্তান আলিম। কিন্তু চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আর এই নিয়েই সরগরম হয়ে উঠেছিল সামাজিক গণমাধ্যমসহ ভিজুয়াল মিডিয়ার বাইরের জনসাধারণ।

শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত।

চিত্রনায়ক শাকিব খান: এ বছর আলোচনার তুঙ্গে ছিল চিত্রনায়ক শাকিব খান এবং চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের বিবাহ-বিচ্ছেদ। চলচ্চিত্রাঙ্গনের এ দুই তারকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হৈ-চৈ পড়ে যায় এ বছরের এপ্রিল মাস থেকেই। দীর্ঘদিন লাপাত্তা থেকে শাকিব পত্নী অপু বিশ্বাস হুট করেই এ বছর ১০ এপ্রিল হাজির হন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। সেই সময় অপুর কোলে ছিল ফুটফুটে একটি বাচ্চা। আব্রাম নামের শিশুটির পিতা শাকিব খান।

শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাস তাদের বিয়ের খবর গত ৯ বছর ধরে গোপন রেখেছিলেন। অতঃপর, এক প্রকার হাটে হাঁড়ী ভেঙে দেওয়ার মতো অবস্থায়, কাঁদতে কাঁদতে টিভি পর্দা সিক্ত করে- সমস্ত সত্য ব্যক্ত করেছ দিয়েছেন অপু বিশ্বাস। পরিশেষে নভেম্বর নাগাদ গুঞ্জন উঠে শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে। সেই গুঞ্জনের সত্যতা আসে ডিসেম্বর নাগাদ। অপু বিশ্বাসের বাড়িতে বিচ্ছেদপত্র পাঠিয়ে দেন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

অনন্ত জলিল। ছবি: সংগৃহীত।

অনন্ত জলিল: বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা অনন্ত জলিল। ১৯৯৯ সালে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করলেও, ২০১০ সালে ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউড চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। তবে এ বছর তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করা শুরু করেন এবং তাবলিগ জামাতে যোগ দেন। অনন্ত জলিলের আকস্মিক বদলে যাওয়ার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আন্তর্জাতিক মিডিয়ারও। আরব নিউজে তার নতুন সত্ত্বা নিয়ে লেখা হয়েছিল বিশেষ প্রতিবেদন। শিরোনাম ছিল এমন, 'বাংলাদেশের নায়ক যখন ধর্ম প্রচারক’। এসব মিলিয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি চলে যায় অনন্ত জলিলের ওপর। তার কাজকর্মে কৌতূহলী হয়ে উঠে সাধারণ মানুষেরা। তার এ বদলে যাওয়া চলতি বছর বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। ছবি: সংগৃহীত।

তাহসান খান: এ বছর বিনোদন সংশ্লিষ্ট যে ১০ জন ব্যক্তিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, তাদের মধ্যে তাহসান খানকে অন্যতম ধরা চলে। এর প্রধান কারণ তাহসান-মিথিলার ডিভোর্স। মূলত তাদের দুজনেরই রয়েছে অগণিত ভক্ত। তাই তাদের বিচ্ছেদটি যেন আলোচনার মহামারি সৃষ্টি করেছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমন কি তাদের ডিভোর্স প্রতিরোধে ইভেন্টও তৈরি হয়েছিল ফেসবুকে। গত ২১ জুন নিজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিলেন মিথিলা। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল। চলতি বছর ২০ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে তাহসান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্সের বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজুর রহমান: বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড.মাহফুজুর রহমান। তারই উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা বিশ্ব বাঙালির কাছে তুলে ধরছে এদেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে। গানের প্রতি ড.মাহফুজুর রহমানের রয়েছে অসম্ভব ভালোবাসা। আর তাই তিনি নিজেই যুক্ত হয়েছেন গানের ভুবনে। তারই গাওয়া গান নিয়ে গত বছর কোরবানির ঈদে প্রচার হয় ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। এরপর গত রোজার ঈদে প্রচার হয়েছে সংগীতানুষ্ঠান ‘প্রিয়া রে’। আর এবার ঈদ-উল-আজহায় প্রচার হয় একক সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’। এ অনুষ্ঠানে ছিল মোট ১০টি গান। চলতি বছর ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টা বেজে ৩০ মিনিটে তার একক সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’ প্রচারিত হওয়ার পর, সাধারণ মানুষ সেটিকে ব্যঙ্গ-রসাত্মকভাবে গ্রহণ করে। ফেসবুকে এ নিয়ে ট্রল হয়েছে প্রচুর। গোটা সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই হৈ-হৈ-রৈ-রৈ ছিল মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান নিয়ে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পপশিল্পী মিলা ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত।

পপশিল্পী মিলা: চলতি বছর সেপ্টেম্বর নাগাদ পপশিল্পী মিলা ইসলামের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে তার স্বামী বৈমানিক পারভেজ সানজারির। ৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে মিলা নিজেই এ প্রসঙ্গে নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত লিখে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্বামীর প্রতি একপ্রস্থ অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল জনমানুষ। বিষয়টি প্রচুর আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ বছর।

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। ছবি: সংগৃহীত।

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল: অক্টোবর নাগাদ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ বিজয়ী হয়ে আলোচনায় আসেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। তবে বিজয়ী হয়েও নিজের মুকুট ধরে রাখতে পারেননি এ তরুণী। তথ্য গোপনের অপরাধে তাকে বাদ পড়তে হয়েছে। সেই সময় থেকেই বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছেন এভ্রিল। তাকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে হয়েছে অনেক তর্ক-বিতর্ক। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, আশা বাঁধা ও ভঙ্গের খেলার অবসান ঘটে যখন তিনি বাদ পড়েছিলেন। মুকুট হারিয়ে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এভ্রিল লিখেছিলেন-‘আমি আপনাদের এভ্রিল, আপনাদের চোখে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, চ্যাম্পিয়ন আছি এবং আপনাদের ভালোবাসায় থাকব। যতদিন পর্যন্ত বেঁচে আছি, বাল্যবিবাহ নিয়ে আমি কাজ করব, যাতে আর কোনো মেয়ের স্বপ্ন না ভাঙে। এটি বাস্তবায়ন করার জন্য আপনাদের সাহায্য এবং সহযোগীতা কামনা করছি। ধন্যবাদ’।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। ছবি: প্রিয়.কম।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু: অক্টোবর মাসের প্রথম পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিনোদন জগতে বিপুল সমালোচিত হন নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। প্রয়াত চিত্রপরিচালক ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানকে ‘রাজাকার’ আখ্যায়িত করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সাংস্কৃতিক অভিবাসী সমাবেশে খান আতা সম্পর্কে মন্তব্যটি করেন তিনি। উক্ত সমাবেশে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু- খান আতাউর রহমান নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে বলেন,`আবার তোরা মানুষ হ-এটা তো নেগেটিভ ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ। খান আতা রাজাকার, আমি না হলে খান আতা বাঁচতো না। আমি না হলে খান আতা ৭১-এ ১৬ ডিসেম্বরের পরে মারা যায়। সে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ, তোকে মানুষ হতে হবে’।

উক্ত অনুষ্ঠানে ধারণকৃত নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর বক্তব্য সম্বলিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি তীব্র নিন্দার তোপে পড়েন। তখন প্রিয়.কম যোগাযোগ করেছিল প্রয়াত খান আতাউর রহমানের সন্তান- কণ্ঠশিল্পী আগুনের সঙ্গে। প্রশ্ন ছিল, এ বিষয়টিকে তিনি কীভাবে দেখছেন, অর্থাৎ- এ বিষয়ে আগুনের বক্তব্য কী? আগুন প্রিয়.কমকে বলেন- ‘বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাহেব আমার বাবা সম্বন্ধে কী যেন বলেছেন, নিউ ইয়র্কের কোনো একটি অনুষ্ঠানে। আমি মনে প্রাণে চাইব যে সেই ভিডিও ক্লিপটি যেন ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষীর কাছে পৌঁছে যায়। যেহেতু আমার বাবা জনগণের কাছের মানুষ। তাই তাদের প্রতিক্রিয়া জানার পর প্রয়োজনে আমি প্রেস কনফারেন্স করব। অবশ্যই সাথে থাকবে ভার্চুয়াল মিডিয়া। আমার কাছে সদুত্তর আছে। সবশেষে বাচ্চু সাহেবের প্রতি রইল আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন’।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী: ডুব চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে এ বছর আলোচনার একেবারে কেন্দ্র ঘেঁষেছিলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 'ডুব' ছবিটি নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের কিছু বিতর্কিত অধ্যায়ের সাথে মিলে যায়-এমন এক খবরের ভিত্তিতে মেহের আফরোজ শাওন ঘোর আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ফারুকীর বক্তব্য ছিল- ছবিটির গল্প ও চরিত্ররা কাল্পনিক। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছিল ডুব। মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ১৪ এপ্রিল ২০১৭। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে চলতি বছর ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল 'ডুব'। এর আগেই চলতি বছর ৩০ জুন রাশিয়ার মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কমেরসান্ত জুরি পুরস্কার পেয়েছে ‘ডুব’। সব মিলিয়ে সিনেমাবোদ্ধা ও সমালোচক মহলে ‘ডুব’ চলচ্চিত্র নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল তুমুল। পরিশেষে মেহের আফরোজ শাওন ছবিটি দেখেছেন এবং তার প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন। শাওন কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে, সময় টিভির কলকাতা প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘কলকাতায় আসার আগে আমি ডুব দেখেছি। হলে গিয়ে দেখতে পারিনি। একটা স্পেশাল শো-তে দেখেছি। সত্যি কথা বলি ‘ডুব’ দেখে আসলে আমার হাসি পেয়েছে’।

শাওন আরও বলেছেন, ‘যদি হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী হিসেবে বলি, এটা হুমায়ূন আহমেদও হয়নি। হতে পারে অন্য কেউ। কিন্তু খুব জোর করে হুমায়ূন আহমেদকে ঢোকানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু এটা হুমায়ূন আহমেদ না। ‘ডুব’ এ হুমায়ূন আহমেদ নেই। হুমায়ূন আহমেদ অনেক বড় জিনিস। হুমায়ূন আহমেদ অনেক অন্য জিনিস। এটা হুমায়ূন আহমেদের বায়োও না। ছবিতে আমরা যাকে দেখেছি তিনি কোনোভাবেই হুমায়ূন আহমেদ না’।

শাহরিয়ার নাজিম জয়। ছবি: সংগৃহীত।

শাহরিয়ার নাজিম জয়: অভিনেতা, নির্মাতা ও সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয়। তার পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয় ‘সেন্স অব হিউমার’ নামে একটি অনুষ্ঠান। ঐ অনুষ্ঠানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অভিনেতা ওমর সানি। তার অভিযোগ শাহরিয়ার নাজিম জয়ের প্রতি। উক্ত অনুষ্ঠানে গিয়ে জয়ের প্রশ্নজালে আটকেছেন অনেক তারকাই। তবে এবারই প্রথম ফেসবুকে এ প্রসঙ্গে দু-দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওমর সানি। বেশ কিছু অভিযোগ ও উপদেশ সহযোগে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের প্রসঙ্গে স্ট্যাটাস দুটি দিয়েছেন তিনি। তবে শাহরিয়ার নাজিম জয় এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাতই করেননি। শুধু একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'দর্শকরা চাইলে তিনি উপস্থাপনা করবেন এবং না চাইলে করবেন না। কে কী বলছে সেটি তার বিষয় নয়'। তিনি পুরো বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন দর্শকদের ওপর। বিপরীত দিকে শাহরিয়ার নাজিম জয় এবং তার উপস্থাপিত অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেছেন তানভীন সুইটি। ফেসবুকে প্রশংসাসূচক একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন সুইটি। শাহরিয়ার নাজিম জয়, ওমর সানি, তানভীন সুইটি এবং 'সেন্স অব হিউমার' অনুষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি করেছে এ বছর গোটা ডিসেম্বর মাস জুড়ে।

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন