ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন। ছবি: লেখক

আতঙ্ক নয়, ডাক্তাররা থাকুক আস্থার জায়গায়

প্র‌ফেসর সা‌হেবা (নারী) তখন মোবাইলে ব্যস্ত (সম্ভবত ফেসবুকিং করছে) আর এপাশ-ওপাশ কর‌ছিলেন। সে আমার কোনো কথা না শু‌নেই আমা‌কে একটা ১০ মিলিগ্রাম ঔষধ দিলো। যেটা আমি পু‌রো কোনো ফা‌র্মে‌সি‌তে খুঁজে পাই‌নি।

ফারজানা কুইন
লেখক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২৭
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৬


ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন। ছবি: লেখক

‌(প্রিয়.কম) চি‌কিৎসা‌সেবায় আমা‌দের ভাবমূ‌র্তি আরো উজ্জ্বল করা দরকার। আমা‌দের চি‌কিৎসা‌সেবা‌কে পু‌রোপু‌রি রো‌গে ধ‌রে গে‌ছে। ভুগ‌তে ভুগ‌তে আমরা এমন অবস্থায় পৌঁ‌ছে গে‌ছি, আমা‌দের ডাক্তার‌রা গণহা‌রে অসুস্থ হ‌য়ে পড়‌ছেন। সাধারণ রোগী‌দের চি‌কিৎসার আগে ডাক্তার‌দের যথাযথ সুস্থ ক‌রে তোলা জরুরি।

ডাক্তার‌দের এ বিপর্যয় থে‌কে বের কর‌তে না পার‌লে চি‌কিৎসা‌সেবা পু‌রোপু‌রি ভে‌ঙে পড়‌বে। চি‌কিৎসার না‌মে গাদাগাদা টেস্ট, ভুল চি‌কিৎসায় রোগীর মৃত্যু, হাজার হাজার টাকা হা‌তি‌য়ে নেওয়া, এসব হয়রানি প্র‌তি‌দিনকার। আস্থার জায়গা থে‌কে ডাক্তাররা এখন আত‌ঙ্কের জায়গা হ‌য়ে উঠ‌ছে।

এ সমস্যা থে‌কে মানুষ বের হ‌তে চায়।‌ সরকারি হাসপাতালগু‌লোর প্র‌তি মানু‌ষের আস্থা বরাবরই বে‌শি। দশ, বিশ টাকার টি‌কিট কে‌টে দীর্ঘ লাইন ধ‌রে তাই মানুষ ভিড় জমায়। যা‌তে চি‌কিৎসাটা ভালো পাওয়া যায়। ইদা‌নীং সরকারি হাসপাতা‌লেও চল‌ছে ভুল চি‌কিৎসা। আস্থা হা‌রি‌য়ে ফেল‌ছে মানু‌ষ।

এক্ষে‌ত্রে কিছ‌ু অভিজ্ঞতার কথা না বল‌লেই নয়।  কিছু‌দিন আগে আমার মা প্রচণ্ড কোম‌র ব্যথার জন্য বঙ্গবন্ধু‌ মে‌ডি‌কেলে যায়। ডাক্তার মাকে এমআরআই (M.R.I) কর‌তে দেয়।‌ রি‌পোর্ট দে‌খে ডাক্তার ব‌লল, আপনার হাড় ভে‌ঙে গে‌ছে, তাড়াতা‌ড়ি অপা‌রেশন করা‌তে হ‌বে। ২০ হাজার টাকা লাগ‌বে। আমার প‌রি‌চিত আছে, ওখা‌নে টাকা কম রাখ‌বে। আপ‌নি ওখানে কর‌তে পা‌রেন।‌

মা ফি‌রে এসে ভীষণ ভয় পে‌য়ে যায়। ডাক্তা‌রের এমন কথায় বাবা আস্থা পা‌চ্ছিলেন না দে‌খে একই রি‌পোর্টটা পা‌শের রু‌মের অন্য ডাক্তার‌কে দেখায়। ডাক্তার  রি‌পোর্ট দে‌খে কিছু ব্যথার ঔষধ, একটা কোম‌রে বাঁধার বেল্ট, আর কিছু ব্যায়াম দেন মা‌কে।

এক মা‌সের ম‌ধ্যে মা প্রায় পু‌রোপু‌রি সুস্থ হ‌য়ে ওঠে। অথচ আগের ডাক্তার ব‌লল হাড় ভেঙে গে‌ছে, অপা‌রেশন করা‌তে হ‌বে।‌ সে যাত্রায় মা বেঁ‌চে যায়। না-জা‌নি এমন ক‌রে কত ভালো মানু‌ষের জীবন ওই ডাক্তার নষ্ট করছে। ভুল চি‌কিৎসা দি‌চ্ছে।

‌এরপর বার‌ডে‌মের এক ডাক্তা‌রের কা‌ছে আমি যাই সামান্য সমস্যা নি‌য়ে। ডাক্তার ঔষধ দেওয়ার পর একদিন ‌ওই প্রেস‌ক্রিপশ‌নের ঔষধ খাই। অবস্থা আরো খারা‌পের দি‌কে গে‌লে  ঔষধ বন্ধ ক‌রে দি‌য়ে পর‌দিন ‌বার‌ডে‌মের অন্য এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ডাক্তার আমার দুই একটা কথা শু‌নেই ব‌লে তু‌মি কি পেড‌নি‌সোলন জাতীয় ঔষধ খে‌য়েছ? বললাম, হ্যাঁ খে‌য়ে‌ছি। ওই ঔষধ কে প্রেসক্রাইব করল ডাক্তার প‌রে তার খোঁজ নি‌লেন এবং সে ঔষধ খে‌তে বারণ করলেন।

‌এসব বছর দু‌য়েক আগের কথা। গত ৩ এপ্রিল আবার বঙ্গবন্ধু মে‌ডি‌কে‌লে যাই, বৈকা‌লিক এক প্র‌ফেস‌রের শরণাপন্ন  হই। ভেত‌রে গিয়ে দে‌খি ইন্টা‌র্নি করছে এমন একটা মে‌য়ে আমার সমস্যার কথা স্লি‌পে লিখ‌ছে তার পা‌শে আরেকজন রোগীর আরেক ইন্টা‌র্নিয়ান স্লিপ লিখ‌ছে। প্র‌ফেসর সা‌হেবা (নারী) তখন মোবাইলে ব্যস্ত (সম্ভবত ফেসবুকিং করছে) আর এপাশ-ওপাশ কর‌ছিলেন। তা‌কে অস্থির  দেখা‌চ্ছিল। সে আমার কোনো কথা না শু‌নেই আমা‌কে একটা ১০ মিলিগ্রাম ঔষধ দিলো। যেটা আমি পু‌রো শাহবাগের কোনো ফা‌র্মে‌সি‌তে খুঁজে পাই‌নি। এম‌নকি ঔষ‌ধের সব‌চে‌য়ে বড় প্র‌তিষ্ঠান লাজ ফার্মাতেও পাই‌নি।

বি‌ক্রেতা‌দের এ ঔষধ কোথায় পে‌তে পা‌রি–জি‌জ্ঞেস করলে জানায়, এ ঔষধটার ১০ মিলিগ্রাম হয় না, এটা ২০ মিলিগ্রাম থে‌কে শুরু। দে‌শের সব‌চে‌য়ে বড় হাসপাতালের চি‌কিৎসক য‌দি এমন ভুল ক‌রে তাহলে মানুষ কোথায় যা‌বে, কি ক‌রে ডাক্তার‌দের প্র‌তি আস্থা রাখ‌বে।‌ চি‌কিৎসা‌সেবার এ হয়রা‌নির শিকার এখন প্র‌তি‌টি মানুষ। এ মুমূর্ষু  চি‌কিৎসা‌সেবা থে‌কে মানুষ বাঁচ‌তে চায়। আত‌ঙ্কের জায়গায় নয়, মানুষ চায় ডাক্তাররা থাকুক আস্থার জায়গায়।

[প্রকাশিত লেখা ও মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা এবং কিছু কথা
জীবেন রায় ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮
ভাগাভাগির সমীকরণ, হলফনামা ও উল্টো কথা
কাকন রেজা ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
আত্মহত্যা এবং কিছু অপ্রিয় সত্য
ফুয়াদ খন্দকার ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
‘কিছু ভুল না হলে আমরাই জিততাম’
‘কিছু ভুল না হলে আমরাই জিততাম’
বাংলা ট্রিবিউন - ১৫ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসক সংকটে সেবা পাচ্ছেন না রোগী
চিকিৎসক সংকটে সেবা পাচ্ছেন না রোগী
https://samakal.com/ - ১ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
ভুল স্বীকারের

নমুনা | কালের কণ্ঠ
ভুল স্বীকারের নমুনা | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ১ দিন, ১৪ ঘণ্টা আগে