‘আপনি কি আদালতকে থ্রেট দিচ্ছেন?’

খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্ট চারটি কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। আমরা এখনো সে আদেশের সার্টিফাইড কপি হাতে পাইনি। আদেশের কপি পেলে লিভ টু আপিল করব।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ ২০১৮, সময় - ১৫:৪৯

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানির সময় একজন আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘থ্রেট (হুমকি) দেবেন না।’

১৪ মার্চ, বুধবার সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। বিষয়টি প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের চারজন বিচারপতির আদালতে শুনানি করা হয়। 

এ মামলার শুনানির শুরুতেই আদালতে কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও উপস্থিত ছিলেন। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মীর নাসির উদ্দিন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

শুনানির শুরুতেই দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্ট চারটি কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। আমরা এখনো সে আদেশের সার্টিফাইড কপি হাতে পাইনি। আদেশের কপি পেলে লিভ টু আপিল করব।’ 

এ সময় প্রধান বিচারপতি সিপি (লিভ টু আপিল) ফাইল করে আনতে বললে দুদকের আইনজীবী জানান, সিপি ফাইল করতে রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হবে। এতে তিনি সে সময় পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখা অনুরোধ করেন।

পরে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য না শুনে আপনি এভাবে আদেশ দিতে পারেন না।’

প্রতি উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রবিবার পর্যন্ত স্থগিত দিয়েছি। ওই দিন শুনব।’ 

জয়নুল আবেদীন তখন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি একতরফাভাবে শুনানি করে আদেশ দিলে এতে আদালতের প্রতি পাবলিক পারসেপশন (জনমত) খারাপ হবে।’

এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা পাবলিক পারসেপশনের দিকে তাকাই না। কোর্টকে কোর্টের মতো চলতে দিন।’

শুনানির একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, ‘আপনি না শুনেই একতরফা আদেশ দিয়েছেন। আমাদের কথা শুনতে হবে। কেন শুনবেন না?’

উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কার কথা শুনব, কার কথা শুনব না- তা কি আপনার কাছে শুনতে হবে?’

গিয়াস উদ্দিন আবারও উত্তেজিত হয়ে একই কথা বললে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি কি আদালতকে থ্রেট (হুমকি) দিচ্ছেন?’

জবাবে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘শুনে, তার পর আদেশ দিতে হবে।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘থ্রেট দেবেন না।’ 

এর আগে ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিন দেন। সে জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। ১৩ মার্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশে নো অর্ডার দেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। এ ছাড়া এই মামলায় নিন্ম আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। পাশাপশি নিন্ম আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। ওইদিন থেকেই কারাগারে রয়েছেন বিএনপিপ্রধান।   

এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/ অনীকা/শান্ত  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন