(প্রিয়.কম) প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে রাজনীতি না করতে বিএনপির উদ্দেশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘এসব নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করবেন না, এগুলো আন্দোলনের কোনো খোরাক না এবং এ ব্যাপারে কোনো আন্দোলন হবে না।’

১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘লেজিসলেটিভ ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচারপতির সিনহার ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত কিছু বলা হয়নি, প্রধান বিচারপতি যা চেয়েছেন, তাই প্রজ্ঞাপনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রাধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করার পর এখন চাপ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

আইনমন্ত্রী বিএনপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ছুটি নেওয়া, তা বাড়ানো এবং বিদেশ যাওয়া সবকিছু প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার চাওয়া অনুযায়ীই হয়েছে বলে জানিয়ে এ বিষয়ে ‘রাজনীতি’ না করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখে ছুটি নিয়েছেন তার অসুস্থতার কারণ বলে, এটিকে রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি কোনো পয়েন্ট তো তারা আন্দোলন করার পায় না, তারা চেষ্টা করে খড়কুটো ধরে আন্দোলনটা যদি করা যায়।’ 

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতির আবেদনে এর আগে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিচারপতি সিনহা যেহেতু আরও বেশি দিন বিদেশে থাকবেন, সেহেতু রাষ্ট্রপতি নতুন আদেশ দিয়েছেন। বর্ধিত ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময়ে, অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সম্পাদন করবেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউয়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি, গতকাল বা গত পরশু এই রায়ের কপি পেয়েছি। এটি ৭৯৯ পাতার জাজমেন্ট এবং প্রতিটি লাইন অত্যন্ত ইম্পর্টেন্ট, আমরা চেষ্টা করব ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত