(প্রিয়.কম) গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী আলোচিত প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলের যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হয়েছে। গত বছর মার্কিন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জুনিয়র ট্রাম্প সরাসরি উইকিলিকসের সঙ্গে টুইটারে বার্তা বিনিময় করেছিলেন। আর এর মধ্য দিয়ে মার্কিন নির্বাচনের সময় অন্য কোন পক্ষের হাত থাকার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে এসব বার্তা বিনিময়ের নথি হস্তান্তর করেছেন জুনিয়র ট্রাম্পের এক আইনজীবী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম আটলান্টিক ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিনিময় হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

এই সময় উইকিলিকস ও ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার গুরত্বপূর্ণ সময় ছিলো। সেসময় রাশিয়ান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে টালমাটাল ছিলো ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির। আর উইকিলিকসের হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

আটলান্টিক ম্যাগাজিনের খবর অনুযায়ী, ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিনিময় হয়েছিলো ১২ অক্টোবর। এর দুইদিন আগে জুনিয়র ট্রাম্পের বাবা উইকিলিকসের প্রশংসা করেন। পরে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় বলে, ‘তুমি আর তোমার বাবা আমাদের প্রশংসা করছ দেখে আমরা খুবই খুশি। অনুরোধ করবো আমাদের দেওয়া লিঙ্ক যেন তোমার বাবা শেয়ার করেন। সংবাদমাধ্যম এগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা নিশ্চিত তোমাদের সমর্থকেরা এগুলো পছন্দ করবে।’

টুইটারের শেয়ার করা লিঙ্কে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান জন পোদেস্টার ফাঁস হওয়া কিছু ইমেইল ছিলো। আটলান্টিক ম্যাগাজিনের লেখক জুলিয়া লোফে দাবি করেছেন, টুইটারের ওই বার্তার জবাব দেননি জুনিয়র ট্রাম্প। তবে দুইদিন পর ১৪ অক্টোবর সরবরাহ করা লিঙ্কটি শেয়ার করেন।

এসব বিষয় নিয়ে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। অ্যাসাঞ্জ জানান, আটলান্টিক নির্দিষ্ট কিছু বার্তা সম্পাদনা করেছে।

জুনিয়র ট্রাম্পের এক আইনজীবী অবশ্য বলছেন, ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি এসমস্ত নথির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর যথাযথ ফোরামে এবিষয়ে কোন প্রশ্ন উঠলে আমরা জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি আছি।’

সোমবার সন্ধ্যায় জুনিয়র ট্রাম্প টুইটার পোস্টে উইকিলিকসের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত নথি আছে বলে দাবি করে একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন।

আটলান্টিকের দাবি, গতবছরের ২০ সেপ্টেম্বর উইকিলিকসের পক্ষ থেকে প্রথম যোগাযোগ করা হয়। এতে জানানো হয়, পুতিন-ট্রাম্প নামে একটি নতুন রাজনৈতিক কমিটি যাত্রা শুরু করেছে। উত্তরে পরদিন সকালে জুনিয়র ট্রাম্প বলেন, এবিষয়ে এখনও কিছু জানি তা তবে খোঁজ নিচ্ছি।

ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে আটলান্টিক ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের ঘনিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে উইকিলিকসের নিবিড় যোগাযোগ ছিলো। এদের মধ্যে ছিলেন প্রচারণা দলের প্রধান স্টিভ ব্যানন আর ট্রাম্পের জামাতা কুশনার। 

ওই বছরের ৩ অক্টোবর পরবর্তী বার্তা বিনিময়ে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরকে ক্লিনটনের একটি বক্তব্য প্রচারের আহবান জানানো হয়। উত্তরে জুনিয়র ট্রাম্প বলেন, সকালেই তা করা হয়ে গেছে। এর কিছুক্ষণ পরেই উইকিলিকসে ফাঁস হতে যাওয়া নতুন নথি সম্পর্কে জানতে চান জুনিয়র ট্রাম্প।

আটলান্টিকের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১২ অক্টোবরের পর জুনিয়র ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আর কোন টুইটের জবাব দেওয়া হয়নি। তবে এরপরও জুনিয়র ট্রাম্পের আরেকটি টুইটের দাবি করা হয়েছে। ওই টুইটে জুনিয়র ট্রাম্প উইকিলিকসকে তার বাবার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ পেলে ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ স্পষ্ট হবে জানিয়ে তা প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়।

জবাবে উইকিলিকস জানায়, এটা করা হলে তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ হবে। আর লাভবান হবে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির।

৮ নভেম্বর নির্বাচনের দিন জুনিয়র ট্রাম্পকে নির্বাচনী দৌড়ে হেরে গেলে মিডিয়ার স্পটলাইটে থাকতে ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আবার অবিশ্বাস্যভাবে ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকার সময়ে সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা চায় উইকিলিকস। তবে এসব টুইটের কোনো জবাব দেননি জুনিয়র ট্রাম্প।

অবশ্য জুনিয়র ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম অভিযোগ নয়। ২০১৬ সালের জুনে রাশিয়ান আইনজীবী নাতালিয়া ভেসেলনিটসকায়ার সঙ্গে যোগাযোগের দেখা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই সাক্ষাতে রাশিয়ান আইনজীবী সরকারের পক্ষ থেকে হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে ট্রাম্পের প্রচারণা দলকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হয়েছিলো বলে জানা যায়।