(প্রিয়.কম) তখন ১৯৮০ সাল। মেয়েটি গিয়েছিল তার মায়ের কাজিন স্বপ্না খালার বিয়েতে। সেখানে গিয়ে এই ছবিটি তুলেছিল ও। তখন মেয়েটির বয়স ছিল ১১ বছর। এটিই ওর জীবনে তোলা সর্বপ্রথম রঙিন ছবি। ১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করে মেয়েটি।

১৯৮২ সালে বড় মামার বিয়ের সময় তোলা। ছবি: সংগৃহীত।

বাবার নাম আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে ও ছিল তৃতীয়। বাবার হাত ধরে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রবেশ করে এই মেয়েটি। আশির দশকে বিটিভিতে অন্তরঙ্গ নামক একটি অনুষ্ঠান হতো। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৯৮২ সালে এলোমেলো চুল আর ললাটের ভাঁজ নামক একটি গান গেয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রবেশ করেছিল ও। ততদিনে ও পরিণত হয়েছে একটি কিশোরী মেয়েতে।

১৯৮৩ সালে ঢাকার মাদারটেকএ তোলা। ছবি: সংগৃহীত।

আজ সেই মেয়েটি দেশের একজন প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পী। চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি সহ প্রায় সবধরনের গানে রয়েছে তার কন্থের অবদান। এ যাবত তিনি তিন হাজারেও অধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানের পাশাপাশি তিনি ছবি অঙ্কনেও বিশেষ পারদর্শী। শুধু তাই-ই নয়। তিনি একজন স্বনামধন্য লেখিকাও। এ যাবত তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। ১১ বছর বয়সে সর্ব প্রথম রঙিন ছবি তোলা সেই মেয়েটি বর্তমানে- গানে, চিত্রাঙ্কনে ও লেখালেখির মাধ্যমে রাঙিয়ে চলেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার সুপরিচিত রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল; প্রিয়.কম।

এ যাবত তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিন বার। পেয়েছেন বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৮৮ ও ১৯৯৯ সালে অর্জন করেছেন দর্শক ফোরাম পুরস্কার। প্রযোজক সমিতি পুরস্কার পান ১৯৯৫ সালে। এছাড়াও প্রথম আলো-মেরিল পাঠক জরিপ জয় করেছেন চার বার। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলো হচ্ছে: যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়, কিছু কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসা চাওয়াটাই ভুল, চোখের ভেতর স্বপ্ন থাকে, আমার প্রেমের তাজমহল, অনন্ত প্রেম, অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম, তালপাতার এক বাঁশি, তোমাকে ভালোবেসে দিতে পারি প্রাণ, তোমায় দেখলে মনে হয়, ইত্যাদি।

প্রিয় বিনোদন/গোরা